logo

সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

পুলিশকে ৫০ লাখ টাকা জারিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একসময় ছিলেন ভারত-বিখ্যাত বিজ্ঞানী। ইসরোয় গবেষণারত অবস্থায় ভারতে তরল জ্বালানি দিয়ে রকেট চালানোর পদ্ধতির অন্যতম প্রবর্তক ছিলেন। তাকেই কিনা অনাবশ্যক কারণে নির্যাতন এবং মারধর করে ভারতের কেরল পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন ইসরোর প্রাক্তন গবেষক নাম্বি নারায়ণন।

তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল এবং নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিলেন তিনি। বিজ্ঞানী নাম্বি নায়ারণনের এ অভিযোগের ভিত্তিতে কেরল পুলিশের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন সুপ্রিমকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিলেন, নারায়ণনের উপর অকারণ নির্যাতন করা হয়েছিল।

২৪ বছর আগে বিদেশের চরবৃত্তির অভিযোগে নাম্বি নারায়ণনকে গ্রেপ্তার করেছিল কেরল পুলিশ। ১৯৯৪ সালে নাম্বি এবং আরেক গবেষক ডি শশিকুমারণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গোপনীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগ ছিল, নাম্বি নায়ারণন ‘ফ্লাইট টেস্ট ডাটা’ কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে মালদ্বীপের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। উপগ্রহ উৎক্ষেপণের আগেই গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্য ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠতেই নাম্বির বিরুদ্ধে মামলা করে কেরল পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ৫০ দিন তিনি কেরলের জেলে ছিলেন। অভিযোগ ওঠে সেসময় জেলে ওই গবেষকের উপর অহেতুক অকথ্য অত্যাচার করে কেরল পুলিশ।

এরপর মামলাটি সিবিআইয়কে হস্তান্তর করা হয়। কিছুদিন পর সিবিআই জানিয়ে দেয় নাম্বি নারায়ণনের উপর ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। সিবিআইয়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত ১৯৯৪ সালে আদালত নায়ারণনকে বেকসুর খালাস দেন এবং তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপরই যে পুলিশকর্মীরা তার উপর অত্যাচার করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন নায়ারণন। তার সেই আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে পালটা মামলা দায়ের করেন ইসরোর প্রাক্তন গবেষক।

তার সেই মামলার ভিত্তিতে নতুন রায় দিলেন সুপ্রিমকোর্ট। ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পুলিশ কর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিটিও তৈরি করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম