logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

মহিলা হোস্টেলের বাথরুমে ৯টি গোপন ক্যামেরা, পুলিশের জালে ইঞ্জিনিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

রাস্তা-ঘাটে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বারবার। তবে, ঘরের মধ্যেও যে মেয়েরা নিরাপদ নয় তা চেন্নাইয়ের ঘটনা থেকেই পরিষ্কার। যেভাবে বাথরুমে গোপন ক্যামেরা আটকে রেখে দিনের পর দিন ফুটেজ সংগ্রহ করেছে বাড়িওয়ালা, সেটা সত্যিই আতঙ্কের। চেন্নাইয়ের আদাম্বাক্কামের ঘটনা।

মহিলাদের বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ হলেই তা চালু হয়ে যেত। বাথরুমে কল থেকে যেই না জল পড়তে শুরু করত, সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়ে যেত সেই গোপন ভিডিয়ো ক্যামেরা। ঝপাঝপ তুলে নিত স্নানরতা মহিলাদের ছবি। আর তার পর স্নানরতা মহিলাদের সেই সব ছবি পাঠিয়ে দেওয়া হত মোবাইল ফোন আর ল্যাপটপে।

কেউ কোনও দিন জানতেই পারতেন না বাথরুমের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা সেই গোপন ক্যামেরার খবরাখবর যদি না সে দিন আচমকা প্লাগের সকেট খুলে মেঝেয় এসে পড়ত একটি গোপন ক্যামেরা। সেই ক্যামেরা দেখে তো চক্ষু একেবারে ছানাবড়া হয়ে যায় হস্টেলে থাকা এক মহিলার! তা হলে বাথরুমে তাঁদের স্নানের ছবি এত দিন লুকিয়ে লুকিয়ে তোলা হচ্ছিল?

চেন্নাইয়ের আদামবাক্কামে একটি মহিলা হস্টেলের ঘটনা। হস্টেলটি যিনি চালান, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিগ্রিধারী সেই ৪৮ বছর বয়সী সম্পত রাজকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, হস্টেলের বাথরুমগুলিতে গোপন ভিডিয়ো ক্যামেরা রেখে মহিলাদের অশ্লীল ছবি তোলার জন্য।

পুলিশ ওই হস্টেলে গিয়ে দেখেছে, বাথরুমগুলির বিভিন্ন জায়গায় রাখা থাকত ওই গোপন ভিডিয়ো ক্যামেরাগুলি। কখনও তা প্লাগের সকেটে। কখনও তা বাল্‌বের মধ্যে, কখনও বা বাথরুমে জানাকাপড় রাখার হ্যাঙ্গারে। এমনকি, তাঁর লাল-কালো রংয়ের হাতঘড়িতেও গোপন ক্যাম‌েরা পুরে রেখেছিলেন সম্পত। ইঞ্জিনিয়ার বলে নিজেই সেগুলি লাগাতেন। ফলে, কাকপক্ষীও টের পেত না, হস্টেলের বাথরুমে গোপন ক্যামেরা লাগানো হয়েছে কি না।

ওই হস্টেলের মহিলা আবাসিকদের জেরা করে পুলিশ জেনেছে, নানা অছিলায় প্রায়ই তাঁদের রুমে ঢুকে পড়তেন সম্পত। তার পর কথা বলার সময় সম্পত তাঁর হাতটা মহিলা আবাসিকদের সামনে এমন ভাবে নাড়াতেন যাতে হাতঘড়িতে রাখা গোপন ক্যামেরায় ঝপাঝপ তাঁদের ছবি তুলে নেওয়া যায়।

পুলিশ জানাচ্ছে, হস্তিনাপুরমে বাড়ি সম্পতের। সেখানে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন সম্পত। কিন্তু পরিবার নিয়ে থাকবেন বলে তিনি আন্না নগরের এক বাসিন্দার কাছ থেকে দু’তলার ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। পরে সেখানেই খুলে ফেলেন মহিলা আবাসিকদের হস্টেল। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ৬ জন মহিলা ওই হস্টেলের তিনটি রুম ভাড়া নেন। মাসে ৭ হাজার টাকায়।

ওই হস্টেলে সম্পতের একটি অফিসও রয়েছে। ত্রিচির কলেজ থেকে বিই করার পর সম্পত চেন্নাইয়ে এসেছিলেন রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করতে। কিন্তু ওই ব্যবসায় তাঁর প্রচুর লোকসান হয়। তার পরেই তিনি ওই হস্টেলটি খোলেন। যেখানে তিনি মহিলাদের আবাসিক হিসেবে রুম ভাড়া দিতেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় হস্টেলের বাথরুমগুলিতে নিজেই ওই গোপন ক্যামেরাগুলি বসিয়েছিলেন সম্পত। ক্যামেরাগুলি চালু হয় শব্দে। ওই ক্যামেরাগুলি টানা ৫০০ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে স্ট্যান্ডবাই মোডে। বাথরুমরে দরজা খোলার বা কল থেকে জল পড়ার শব্দ হলেই চালু হয়ে যা ক্যামেরাগুলি। ক্যামেরাগুলি টানা ৪ ঘণ্টার ফুটেজ তুলে রাখতে পারে। হস্টেলে মহিলা আবাসিকদের বাথরুমে বসানোর জন্য আড়াই হাজার টাকা করে ওই ক্যামেরাগুলি কিনেছিলেন সম্পত।

আদামবাক্কামের পুলিশ ইনস্পেক্টর মুরলী বলেছেন, হস্টেলের তিনটি বাথরুমে ওি গোপন ক্যামেরা বসিয়েছিলেন সম্পত। ওই ক্যামেরাগুলিতে তোলা ভিডিয়ো ছবি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে পাঠাতেন সম্পত।

অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা সম্পথ রাজ স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে অন্য একটি বাড়িতে থাকেন। তাঁরই ভাড়া দেওয়ার বাড়ির বাথরুমে খোঁজ মিলেছে গোপন ক্যামেরার। মোট ৯টি ক্যামেরা পাওয়া গিয়েছে মহিলাদের ভাড়া নেওয়া ঘরের ভিতর থেকে।

ত্রিচি থেকে বিই পাশ করার পর রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার স্বপ্ন নিয়ে চেন্নাই এসেছিলেন সম্পথ। কিন্তু সেই ব্যবসায় বিশেষ লাভ হয়নি। ২০১১-তে জমি সংক্রান্ত একটি মামলাতেও ফেঁসে যান তিনি।

সম্প্রতি, একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে ঘর ভাড়া দিতে চান তিনি। জানা গিয়েছে ওই ঘরটি আন্না নগরের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন সম্পথ। বলেছিলেন, নিজের স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে সেখানে থাকবেন। তা না করে মহিলাদের ভাড়া দিয়ে দেন ওই বাড়ি। তিনটি ঘর ভাড়া নিয়ে নেন ছয় মহিলা। মহিলারা সেখানে যাওয়ার আগেই সম্পথ ফিট করে দিয়ে আসেন ক্যামেরা। প্রত্যেকটি ক্যামেরার দাম ২৫০০ টাকা।

ক্যামেরা ছিল বাল্বের সকেটে, বাথরুমে এমনকি নিজের রিস্ট ওয়াচেও। নিজে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় গোপনে ক্যামেরা ফিট করেছিলেন নিজে হাতেই। কাউকে জানানোর প্রয়োজন পড়েনি।

পুলিশ জানিয়েছে ক্যামেরাগুলি ছিল সাউন্ড অ্যাকটিভেটেড। অর্থাৎ রুমের মধ্যে কোনও আওয়াজ হলেই কাজ করতে শুরু করবে ক্যামেরা। বাথরুমের দরজা কেউ খুললেই সেই ক্যামেরা চলতে শুরু করবে। চার ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ড করার ক্ষমতা ছিল ক্যামেরাগুলির। একদিন বাথরুমের প্লাগ সকেট থেকে একটি ক্যামেরা খুলে পড়ে যায়। তখনই প্রকাশ্যে আসে বিষয়টি। মহিলারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা হস্টেল থেকে উদ্ধার হওয়া ক্যামেরাগুলি থেকে কোনও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। অথচ ক্যামেরাগুলো অ্যাকটিভ ছিল। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পেরেছে, ওই ব্যক্তির কাছে ছিল ডুপ্লিকেট চাবি। যখন মহিলারা থাকতেন না, তখনই সম্পথ ওই বাড়িতে ঢুকে সব ফুটেজ সংগ্রহ করে নিজের মোবাইলে বা ল্যাপটপে নিয়ে নিতেন।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম