logo

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

বউয়ের নালিশে লাথি মেরে পদ হারালেন জেলাশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৯

বউয়ের নালিশে থানার ভেতরে যুবককে চড় ও লাথি মেরে পদ হারালেন ভারতের আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক নিখিল নির্মল। তার জায়গায় নতুন জেলাশাসক হতে চলেছেন শুভাঞ্জন দাস। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। নিখিল নির্মলকে পাঠানো হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদে। সেখানে ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে কাজ করবেন তিনি।

কয়েকদিন আগে ফালাকাটা থানায় স্থানীয় এক যুবককে মারধরের জেরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নিখিল নির্মল।
নিখিল নির্মলের স্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে ফালাকাটা থানায় আটক করা হয়েছিল এক যুবককে। জানার পর সস্ত্রীক থানায় এসে থানার ইনচার্জের উপস্থিতিতেই ওই যুবককে মারধর করেন তিনি ও তার স্ত্রী।

সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই ছুটিতে পাঠানো হয় জেলাশাসককে। তার জেরেই তাকে বদলি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, আলিপুরদুয়ার জেলারই বাসিন্দা বিনোদ। ঘটনার সূত্রপাত ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, জেলাশাসকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন বিনোদ। তার বিরুদ্ধে ফালাকাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জেলাশাসক। তার পরই বিনোদকে আটক করে ফালাকাটা থানায় নিয়ে আসা হয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যে থানায় সস্ত্রীক হাজির হন নিখিল নির্মল।

থানায় তখন আইসি সৌম্যজিত রায় ছিলেন। থানায় ঢুকেই বিনোদকে টেনে নিয়ে এসে মারধর শুরু করেন জেলাশাসক ও তার স্ত্রী। পর পর চড় মারা হয় বিনোদকে। সেই সঙ্গে তাকে শাসাতেও থাকেন নিখিল ও নন্দিনী।

ভিডিওতে দেখা যায়, জেলাশাসক বিনোদকে বলছেন, তোমায় যদি আধঘণ্টার মধ্যে থানায় ঢুকিয়ে দিতে না পারি, তা হলে তোমায় বাড়িতে গিয়ে মেরে ফেলতে পারি। এখানেই থামেননি তিনি। তাকে এটাও বলতে শোনা যায়, আমার জেলায় আমার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না।

জেলাশাসকের স্ত্রী নন্দিনীও রেয়াত করেননি বিনোদকে। তাকে দেখা যায় ওই যুবককে চড়, লাথি-গুঁতো মারতে। পাশাপাশি হুমকি দিতে শোনা যায়, কে বলেছে এই পোস্টটা দিতে? বলো…। এত বড় কথা বলার সময় মনে ছিল না?

বিনোদকে বার বার ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়। কিন্তু তার পরেও মারধর করতে থাকেন নিখিল নির্মল ও নন্দিনী।

পুলিশের কাছে বিনোদ জানিয়েছেন, জেলাশাসকের স্ত্রী তার ফেসবুক বন্ধু। কিন্তু তিনি যে জেলাশাসকের স্ত্রী সেটা জানতেন না। রোববার রাতে ফেসবুকে জেলাশাসকের স্ত্রীর সঙ্গে চ্যাট করছিলেন বিনোদ। সেখানে একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়।

তারপর নন্দিনী তাকে একটি গ্রুপে অ্যাড করেন। সেই গ্রুপে বিনোদকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন অনেকে। বিনোদের দাবি, তখনই তিনি জানতে পারেন, নন্দিনী জেলাশাসকের স্ত্রী।

বিনোদের দাবি, নন্দিনী জেলাশাসকের স্ত্রী জানার পর আমি লিখি আপনি তো জেলাশাসকের আলোয় আলোকিত। এর পরই অশালীন ভাষায় গালাগালি দেয়া হয় আমায়। পাল্টা আমিও গালাগালি দিই।

জেলাশাসক ও তার স্ত্রীর এ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। নানা রকম প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, থানায় ঢুকে ওই যুবককে মারধর করার এখতিয়ার কে দিল জেলাশাসককে? ভিডিওটির প্রসঙ্গে জেলাশাসককে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জেলাশাসক কোনও মন্তব্য না করলেও তার স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণ ফেসবুকে এ ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

তিনি সেখানে লিখেছেন, অনেক হয়েছে। সরানোর হলে সরিয়ে দিন। কিন্তু একজন ফ্যামিলি ম্যানকে এভাবে বিরক্ত করা বন্ধ করুন। কী জানেন আপনারা? আসল যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটাই ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে না
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম