logo

শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ | ৭ চৈত্র, ১৪২৫

header-ad

যে কারণে বিচ্ছেদ বাড়ছে আফ্রিকায়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

গায়ে হাত তোলা দূরের কথা, চিৎকার-চেঁচামেচিও করেনি তোমার স্বামী। বিবাহ বহির্ভূত কোনো সম্পর্কও নেই লোকটার। তা হলে? তুমি বিবাহবিচ্ছেদ চাইছ কেন? কোলের ছেলেকে দুধ খাওয়াচ্ছিল জালিকা আমাদু। পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দেশ নাইজারের বাসিন্দা। বয়স কুড়ির কোঠায় পৌঁছায়নি। বিচারকের প্রশ্নে চোখ তুলে তাকালেন জালিকা।

চাপা স্বরে বললেন, বাবার চেয়েও বয়সে বড় একটা লোক। রোজগারও নেই ঠিকমতো। বিয়ের আগে কত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেছিল। আর এখন! আমি ওর সঙ্গে আর থাকব না। পাশ থেকে আর্তনাদ করে ওঠেন জালিকার মা। হায় আল্লা, স্বামীর ঘর করবে না- এ কেমন কথা!

জালিকা একা নয়। পশ্চিম আফ্রিকার ছোট ছোট দেশগুলোতে এখনো মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায় ১৫-১৬র মধ্যেই। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সন্তান। তারপর আরও কয়েকটা। বিয়ের আগে যদি বা কিছু পড়াশোনা বা হাতের কাজ শেখা হয়, বিয়ের পরে সেসব বন্ধ হয়ে যায়। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এই দেশে জালিকাদের মতো পরিবারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী।

স্বামীর রোজগার নেই। কিন্তু তবু স্ত্রীকে রোজগার করতে বাইরে বের হতে দেবে না। সেই বদ্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে চান জালিকার মতো তরুণীরা। দ্বারস্থ হন আদালতের-বিবাহবিচ্ছেদের আর্জি জানিয়ে।

মুসলিম অধ্যুষিত নিজারের মতো পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিবাহবিচ্ছেদ খুব একটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা নয়। তিন তালাকের কোনো প্রথাও নেই এখানে। বিচ্ছেদের জন্য দ্বারস্থ হতে হয় আদালতের।

জালিকা যে আদালতে গিয়েছেন, সেখানকার বিচারক আলকালি ইসমায়েল জানান, এখন মাসে প্রায় ৫০ জন নারী বিচ্ছেদ চেয়ে কোর্টে আসেন। কমবয়সী এই মেয়েরা আর সহ্য করতে চায় না। তারা জানে আদালতই তাদের মুক্তি দিতে পারবে।

সমাজতত্ত্ববিদদের মতে, পশ্চিম আফ্রিকায় ধীরে ধীরে এক ‘বিচ্ছেদের সংস্কৃতি’ তৈরি হচ্ছে। আর সেই সংস্কৃতির কাণ্ডারি মেয়েরাই। নাইজারের ইসলামি অ্যাসোসিয়েশনের সচিব আলৌ হামা বলেন, এখন কমবয়সী মেয়েরা হুট করে বিয়ে করতে চায় না। পড়াশোনা করে রোজগার করতে চায়। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পছন্দের পুরুষকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু অনেক সময়ই পরিবারের চাপে তারা বিয়ে করতে বাধ্য হন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি