logo

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র, ১৪২৬

header-ad

বিষ মদে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভারতের আসামে বিষাক্ত দেশি মদ পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে। হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও দুই শতাধিক। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে 

এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

গোলাঘাটের একটি চা বাগানের বহু শ্রমিককে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তারাও গত বৃহস্পতিবার ওই বিষাক্ত মদ পান করেছিলেন। তাদের অনেকেরই অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।

কারণ হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই ওই এলাকার চা বাগানে বেতন হয়েছিল। বেতনের টাকা হাতে পেতেই দরিদ্র চা শ্রমিকরা নিয়মিত মদ পান, নাচগানে মেতে ওঠেন।

গোলাঘাট জেলার সালমারা চা বাগান এবং জোরহাট জেলার টিটাবোর সাব ডিভিশনের দুটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতেই বিষ মদে চা শ্রমিকদের মৃত্যু হয়। অসুস্থ হওয়ার খবর আসতে থাকে।

আসাম সরকার দুই জেলায় দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এ পর্যন্ত মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবগারি দপ্তরের দুজন অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

আসামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জোরহাট হাসপাতালে অসুস্থদের দেখে বললেন, অসুস্থদের চিকিৎসার তদারকি করছেন ডিরেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অনুপ বর্মন। অন্যান্য জেলা থেকে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জোরহাট এবং গোলাঘাটের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গোলাঘাটের ডিএসপি পার্থপ্রতিম শইকিয়া সাংবাদিকদের জানালেন, আবগারি দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। সব ক'টি বেআইনি মদের ঠেক এবং চোলাইয়ের ভাটিগুলিতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

হতাহতদের সবাই চা-শ্রমিক। বৃহস্পতিবার গোলাঘাট জেলায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে একের পর এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু ঘটতে থাকে। বমি ও বুকে ব্যথা নিয়ে দলে দলে তারা হাসপাতালে আসতে থাকেন। হতাহতদের সবাই গোলাঘাট ও জোরহাটের চা বাগানে কাজ করেন।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, তারা সস্তা ‘চোলাই মদ’ পান করেছিলেন। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এ মদকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

গোলাঘাটের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার রাতুল বরদলই বলেন, বমি, বুকে তীব্র ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসাধীন এক চা-শ্রমিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তিনি আধা লিটার মদ কিনে তা পান করেন। প্রথমে সবকিছু ঠিকই ছিল। কিন্তু কিছু সময় পরে সে মাথা-ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। তার মাথায় এত তীব্র যন্ত্রণা হতে থাকে যেকোনো কিছু খেতে বা ঘুমাতে পারছিলেন না।

অস্থির অবস্থায় রাত কাটে তার। সকালে বুকে ব্যথা শুরু হয়। পরে স্ত্রী তাকে চা-বাগানের হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অবৈধভাবে উৎপাদিত মদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ভারতে খুবই সাধারণ একটি বিষয়। দু’সপ্তাহ আগে উত্তর উত্তর প্রদেশেও অবৈধ মদ পানের কারণে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের তুলনায় অবৈধ এসব মদের দাম বেশ সস্তা। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এগুলো খুবই সহজলভ্য।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম