logo

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক, ১৪২৬

header-ad

৫৩ ঘণ্টা হেঁটে মুক্তির পথে ইয়াজিদি তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডান হাতের পেছনে উল্কিটা আঁকাতে পাঁচদিন লেগেছিল। ব্যথাটা অবশ্য থেকে গিয়েছিল আরও কয়েকদিন। হাশিম। স্বামীর নামের সেই ট্যাটু করাতে গিয়ে ব্যথায় তেমন আমল দেননি বটে। তবে মনে রেখেছিলেন বেশকিছু দিন। কিশোরী ফরিয়াল হয়তো তখনও জানতেন না রুক্ষ পাথুরে রাস্তা দিয়ে এক নাগাড়ে ৫৩ ঘণ্টা হাঁটতে হলে ঠিক কতটা কষ্ট হয়।

২০১৪ সালের আগস্ট। ইরাকের বিভিন্ন অংশ তখন কব্জা করতে শুরু করেছে আইএস। চারিদিকে উড়ছে ইসলামী জঙ্গি সংগঠনের পতাকা। ছেলে আর স্বামীকে নিয়ে ইরাকের তেল বানাতের এক গ্রামে থাকতেন এখন সদ্য কুড়ি পেরোনো ইয়াজিদি কন্যা। ছাপোষা সংসার। আইএস জঙ্গিরা তাদের গ্রামে

ঢুকে পড়েছে শুনে একদিন স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের দশজন মিলে একটা গাড়ি করে পালাতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেননি। বাকিদের মেরে ফরিয়াল আর তার ছেলেকে ধরে নিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। যৌনদাসী বানানো হয় তাকে।

পাঁচবার চেষ্টা করেছিলেন পালাতে। পারেননি। সুযোগ আসে গত বছর। যখন ইরাকের একের পর এক আইএস ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় মার্কিন নেতৃত্বাধীন কুর্দিশ বাহিনী।

গত সপ্তাহে উত্তর সিরিয়ার আমুদায় কুর্দিশ বাহিনী ফরিয়ালকে উদ্ধার করে। তাকে বাড়ি ফেরত পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কিন্তু তার আগে সংবাদ সম্মেলন করা হয় তাকে নিয়ে। ছোট্ট হোশিয়ারকে কোলে বসিয়েই বছরের পর বছর ধরে তাদের উপর হওয়া নির্মম অত্যাচারের কাহিনী শুনিয়েছেন ফরিয়াল।

জানিয়েছেন, নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেত না তার একরত্তি ছেলেও। কখনও গরম প্লেটে তার কচি হাত ঘষে দেয়া হত, কখনও প্রয়োজনের সময়ে তাকে শৌচাগারে যেতে দেয়া হত না। অত্যাচরিত হতে হতে সেই ছেলে ঠিক করে কথা বলতে পারে না এখন। সংবাদ সম্মেলনে মায়ের কোলে বসেও তার দু’চোখ শুধু ঘুরেছে কোথাও কেউ আবার তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে কিনা, সেই আতঙ্কে।

ছয়বার হাত বদল হওয়া ফরিয়াল মনে রেখেছেন তার সব চেয়ে অত্যাচারী মালিককে। আবু কাট্টাব। মা-ছেলে কাউকে রেয়াত করত না সেই জঙ্গি। ফরিয়ালের গালে তার পাঁচ আঙুলের দাগ থেকে গিয়েছিল বহুদিন।

কিন্তু ফরিয়াল জানিয়েছেন, ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সব মেনে নিতেন তিনি। কারণ প্রতিবাদ করলেই ছেলের উপরে চলতো অকথ্য নির্যাতন। কোনও কোনও ইয়াজিদি মায়ের থেকে সন্তানদের কেড়েও নিত তারা। হোশিয়ারকে কাছছাড়া করবেন না বলে মুখ ফুটে কোনও শব্দ উচ্চারণ করতেন না ফরিয়াল।

গত জানুয়ারিতে কুর্দিশ অভিযানের শেষদিকে কোণঠাসা আইএস জঙ্গিরা পালাতে পালাতে ইরাকের বাঘোজে আশ্রয় নেয়। ফরিয়াল জানিয়েছেন, খাবার-ওষুধের রসদ কমতে থাকায় আইএস জঙ্গিরা তখন প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া।

নিজে সারাদিন না খেয়ে সে সময়ে একখানা রুটি ছেলেকে খাইয়ে রাখতেন তিনি। মার্কিন বাহিনীর চোখে ধুলো দেয়ার জন্য শেষমেশ ফরিয়াল আর তার সন্তানকেই হাতিয়ার করে জঙ্গিরা। জানায়, ইয়াজিদি এই মা-ছেলেকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে চায়
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম