logo

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক, ১৪২৬

header-ad

পাকিস্তানে যুদ্ধবিমান হামলা, নিহত ৩০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাত করতে ব্যবহার করা হল মিরাজ–২০০০ যুদ্ধবিমান। ভারতীয় বায়ুসেনার ‘মিরাজ–২০০০’ ১২টি যুদ্ধবিমান অভিযান চালায় জঙ্গিঘাঁটিতে। ঠিক কী কারণে যুদ্ধবিমানটি ব্যবহার করল ভারত অনেকের মধ্যেই এ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পাকিস্তান আশ্রিত জঙ্গিদের আধা সেনা কনভয়ে হামলার পাল্টা হিসেবে ভারতীয় বায়ু বিমান পাল্টা আঘাত করেছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিতে। ভারতীয় বিমান সেনা দাবি করেছে, মক্সগলবার ভোরে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তারা জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান পাক জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে প্রায় ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করেছে। ২১ মিনিটের পূর্বকল্পিত এ অপারেশনে বালাকোট সেক্টর থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে ভারতীয় বিমান সেনার যুদ্ধবিমান।

এরপর বালাকোট, চাকোটি এবং মুজফ্রাবাদে জইশ-ই-মহম্মদের তিনটি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করেছে ভারত। বিমান সেনার দাবি, তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে জইশের কন্ট্রোল রুম আলফা-৩।

দাবি করা হয়েছে, প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গিকে খতম করা সম্ভব হয়েছে। তবে পাকিস্তান বিমানবাহিনী এ হামলার জবাবে মঙ্গলবার সকালে পাল্টা বিমান হামলা চালানোর চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতের দশক থেকে ভারতের হাতে রয়েছে ফ্রান্সের দাসল্টের তৈরি এ যুদ্ধবিমান। তবে তিন দশক আগে তৈরি হলেও এ বিমানের একাধিক আপগ্রেডেশন হয়েছে দীর্ঘ সময়ে। যুদ্ধবিমানটির বিশেষত্ব হল, শত্রু দেশের রেডারকে ফাঁকি দিয়ে তাদের বায়ুসীমায় প্রবেশ করে বোমাবর্ষণ করতে সিদ্ধহস্ত বোমারু বিমান।

তাছাড়া মিরাজ–২০০০ যুদ্ধবিমানের চালকের মাথায় থাকা হেলমেটের মধ্যেই যুক্ত রয়েছে ডিসপ্লে। যুদ্ধবিমানে যেখানে ককপিটে রেডার থাকে, সেটা এ বিমানে রয়েছে চালকের কাছেই। ফলে আসনে থেকেই তিনি সুপারইমপোজড রেডার ডেটা দেখতে পান সরাসরি।

ফলে অনেক সুবিধা হয় প্রত্যাঘাত করতে। তার ওপর এটিতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তিশালী রেডার, যার সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত নিশানা করতে পারে সহজেই। ডপলার বিমিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটিতে থাকা যেকোনও বস্তুর নিখুঁত মানচিত্র এঁকে ফেলতে সক্ষম মিরাজ–২০০০।

এতে রয়েছে কামান, যা শত্রুপক্ষের বিমানকে মাঝআকাশে ধ্বংস করতে পারে। রকেট থেকে শুরু করে লেজার গাইডেড বোমা বহন করতে পারে বিমানটি।

জানা গেছে, একবার আকাশে ‌ওড়ার সময় প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কেজি ওজনের অস্ত্রশস্ত্র এবং বোমা সঙ্গে নিতে পারে। কার্গিল যুদ্ধের সময়ও টলোলিং ও বাটালিক সেক্টরে পাকিস্তানের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল এ মিরাজ–২০০০। এ মুহূর্তে ভারতের হাতে রয়েছে প্রায় ৪০টি মিরাজ যুদ্ধবিমান।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম