logo

বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad
ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস!

মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের ছবি প্রকাশ, কিছু ভবন পুরোপুরি ধ্বংস

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২০

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটির সাতটি ভবন ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বসবাস করেন। মার্কিন ড্রোন হামলায় জনপ্রিয় জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরাকে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমাদের সব সেনা সুরক্ষিত আছে। খুব কম ক্ষতি হয়েছে আমাদের সেনা ঘাঁটিতে।’

অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমের দাবি, ‘অন্তত ৮০ জঙ্গি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।’ প্রমাণ হিসেবে ইরাকের আল-আসাদ বিমান ঘাঁটির কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি।

কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে এসব ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখা গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

বাণিজ্যিক উপগ্রহ কোম্পানি প্লানেট ল্যাবস দুটি ছবি প্রকাশ করেছে। রয়টার্স এই ছবি পর্যালোচনা করেছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বরের ছবিগুলোর সঙ্গে বুধবারের হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির তুলনা করা সম্ভব হয়েছে।

অবকাঠামোর অন্তত তিনটি কাঠামো বিমান ব্যবস্থাপনা হ্যাংগার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কিছু ভবন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। তাদের খুব অল্প কিছু অংশ রয়ে গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় মন্টারিতে মিডলবুরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেফরি লুইস বলেন, ঘাঁটির মার্কিন অংশকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তারা। তারা এটাকে আঘাত করতে চেয়েছে এবং আঘাত করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি
ছবিতে দেখা যায়, হামলায় ঘাঁটির অন্তত পাঁচটি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্পষ্টতা প্রতীয়মান হচ্ছে। মিডিলবারি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ডেভিড শামার্লার ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বলছেন, কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

শামার্লার বলেন, প্রাণহানি এড়াতে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য হিসেবে ঘাঁটিটি বেছে নেয়া হয়েছিল কি-না, সেটা স্পষ্ট নয়। আমরা যে ভবনগুলো এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেছি সেগুলো মূলত বিমান সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হতো বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইরাকের দুই মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছোড়ে ইরান। ইরাকের পশ্চিম আনবার প্রদেশ এবং কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক রাজধানী ইরবিলে ঘাঁটি দুটির অবস্থান। এর মধ্যে আনবার প্রদেশের আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘাঁটি থেকেই পাখা মেলেছিল খুনি ড্রোন।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কিনার থেকে ফিরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেছেন, ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরান তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, দুটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো আমেরিকান হতাহত হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সামান্যই।

ইরানের নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষকে সরাসরি বার্তা দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত আমেরিকা। তার ভাষায়, ‘ইরানের সাধারণ মানুষ এবং নেতাদের বলছি, আমরা চাই আপনাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত, যার দাবিদার আপনারা।’

তবে তেহরানের বিরুদ্ধে দ্রুতই নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। আঘাতের বদলে পাল্টা আঘাতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি যে আভাস দিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প।

গেল শুক্রবার ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যায় ট্রাম্পের নির্দেশের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেটা প্রশমিত হয়েছে।


ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস!
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরাকের আল-আনবার প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আইন আল-আসাদে’র রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ইরাকি সূত্রের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ দাবি করেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নিজের কাছে বিশ্বের সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার দাবি করলেও গতকালের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ওই হামলায় মার্কিন ঘাঁটিটিতে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।