logo

বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad
চীনে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি হটলাইন

এশিয়া-ইউরোপের দেশগুলোতেও হানা দিয়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস

| আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত
মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাস চীন ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, নেপালে ও ভারতেও এ ভাইরাসে কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন।

ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, ইউরোপীয়ান দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাস আক্রান্ত তিনজনকে শনাক্ত করেছে ফ্রান্স।

শুক্রবার দেশটিতে তিনজনকে শনাক্ত করেছে যাদের শরীরে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে। এরমধ্যে দুইজন সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনিয়েস বুজাঁ। আক্রান্ত তৃতীয় ব্যক্তি তাদের একজনের আত্মীয়।

ভাইরাস সংক্রমিত হওয়া আরো রোগীর সন্ধান মিলতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন বুজাঁ।

তিনি বলেন, যেহেতু রোগীরা ফ্রান্সে আসার পর অনেকের সংস্পর্শে এসেছেন, আমরা তাদেরও খোঁজ নিচ্ছি।

মাসখানেক আগে (৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯) চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহানে প্রথম এই ফ্লু টাইপের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। মনে করা হচ্ছে, শহরের সামুদ্রিক মাছের একটি বাজার থেকে এ সংক্রমণ হয়েছে।

ওই বাজারে পশু-পাখিও বেঁচাকেনা হয়। উৎপত্তির পর ভাইরাসটি রাজধানী বেইজিংসহ অন্য প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। মাসখানেকের মধ্যে প্রতিবেশী জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ম্যাকাওয়ে ছড়ায়।

এ পর্যন্ত এক ডজনের বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুক্রবার নেপালে প্রথম একজন রোগীর সন্ধান মিলেছে।

শনিবার অস্ট্রেলিয়া এই জীবাণু আক্রান্ত চারজনের খবর নিশ্চিত করেছে। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে সেসব রোগীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ সেখানে আরো রোগীর সন্ধান মিলতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।

এদিকে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, উহান থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আসা চীনের তিন আক্রান্ত রোগীকে তারা চিহ্নিত করেছে। তাদেরকে দেশটির সরকারি হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের পার্শবর্তী ভারতেও ভয়ঙ্কর ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, চীন থেকে ভারতে ফেরা ১১ জন ব্যক্তির শরীরে ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ মিলেছে। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে তাদের।

এখন পর্যন্ত কেরালায় সাতজন, মুম্বাইয়ে দু’জন এবং বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদে এক জন করে ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখতে পাওয়া গেছে, ফলে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাদের।


চীনে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি হটলাইন

চীনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি হটলাইন চালু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

শনিবার সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ওই স্ট্যাটাসে প্রতিমন্ত্রী জানান, বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে হটলাইন খোলা হয়েছে। হটলাইন নম্বর (৮৬)-১৭৮০১১১৬০০৫। দূতাবাসের কর্মকর্তা খায়রুল বাসার এবং আসিফ হটলাইন দেখাশোনা করছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের উইচ্যাট গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে বাসা থেকে কাউকে বাইরে বের হতে দিচ্ছে না চীন সরকার। এটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। এ নিয়ে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সবাইকে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান।

চীনের উহান শহরে আটকাপড়া ৪০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। দেশে ফেরার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এ আকুতি জানান।

চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, উহান শহরে ৩০০ থেকে ৪০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আটকা পড়েছে। তাদের সহায়তা দিতে দূতাবাস কাজ করছে। বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আটকে পড়াদের সহযোগিতার জন্য একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। নম্বরটি হল +৮৬১৭৮০১১১৬০০৫। নম্বরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

উহানে থাকা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, সেখানকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন ৫০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। উহান থেকে বাস, ট্রেন ও বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ ঘরে থাকছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খাবার সংকটেরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে করোনাভাইরাসে কোনো বাংলাদেশি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, চীনে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।