logo

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা: ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও খুনের আলাম

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ০২ জুন ২০২০

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা: বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জর্জ ফ্লয়েড হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ রোগের জন্য নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন। খবর বিবিসির।

কিন্তু সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে জর্জ ফ্লয়েডের পরিবার। তাদের পারিবারিক চিকিৎসক ও আইনজীবীর দাবি, তাকে পুলিশ শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

শ্বেতাঙ্গ ওই পুলিশ তার ঘাড়ে চেপে বসায় মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয় জর্জ ফ্লয়েডের, সংবাদ সম্মেলনে বলেন নিউইয়র্ক সিটি মেডিকেলের সাবেক চিকিৎসক ডা. মাইকেল ব্যাডেন।

ময়নাতদন্তের এ রিপোর্টে আগুনে ঘি ঢালার মতো বিক্ষোভে নতুনমাত্রা যোগ করেছে। কৃষ্ণাঙ্গ ওই যুবক হত্যার প্রতিবাদে টানা ছয় দিন ধরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।

২৫ মে শেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর পর থেকে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্র হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে অন্তত ৪০ শহরে কারফিউ জারি হলেও তা ভেঙে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। রোববার রাতে নিউইয়র্ক, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া এবং লসঅ্যাঞ্জেলেসে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ ১৫ রাজ্যে তাদের পাঁচ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভাকারীরা রোববারও হোয়াইট হাউসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের দিকে ঢিল ছুড়েছে। কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ফ্ল্যাশ গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হয়েছে দাঙ্গা পুলিশকে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চার পুলিশ সদস্যকে তৎক্ষণাৎই বরখাস্ত করা হয়। ফ্লয়েডের পরিবার জড়িত চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার দাবি জানিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা উপস্থিত হওয়ার পর পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষায় তাকে হোয়াইট হাউসের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই রাতে হোয়াইট হাউসের বাইরে মানুষের বিক্ষোভ দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সঙ্গীরা। অবস্থা বেগতিক দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মাটির তলার আস্তানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

প্রায় ঘণ্টাখানেক মাটির তলায় ঘাপটি মেরে থাকতে হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বাঙ্কার থেকে তাকে ওপরে তোলার পরও নাকি বেশ আতঙ্কেই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ক্রমেই লুটপাট আর সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।