logo

শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ | ১ কার্তিক, ১৪২৮

header-ad
ট্রাম্পকে দেয়া হচ্ছে রেমডেসিভির

ট্রাম্পের মৃত্যু হলে মার্কিন নির্বাচন কি হবে?

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২০

গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন তার করোনা পজিটিভ। তিনি আইসোলেশনে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মেলানিয়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। হোয়াইট হাউজের প্রধান কর্মকর্তা মার্ক মিডাউজ জানিয়েছেন ট্রাম্পের করোনা উপসর্গ সামান্য। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে তার আরও অন্তত ৫ সপ্তাহ লেগে যাবে। এর মধ্যেই ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে কী হবে যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যদি এই সময়ে মৃত্যুবরণ করেন অথবা অক্ষম হন।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। তারা শিরোনাম করেছে ‘মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যদি মৃত্যুবরণ করেন বা অক্ষম হন তখন কী হবে?’ খবর রয়টার্সের।

তবে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সব নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করা হয়েছে।

এ নিয়ে মার্কিন আইন কী বলছে? দলীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত কী হবে ওই পরিস্থিতিতে ৩ নভেম্বর নির্বাচন কি স্থগিত হবে?

হ্যাঁ, নির্বাচন এই পরিস্থিতিতে অসম্ভব। মার্কিন সংবিধান কংগ্রেসকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে, তারা নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে। মার্কিন আইন অনুসারে, প্রতি চার বছর পরপর প্রথম সপ্তাহের সোম-মঙ্গলবারে হয়ে থাকে।

১৮৪৫ সাল থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের দিন নির্দিষ্ট করা হয়। ওই নিয়ম চালুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল কৃষিপ্রধান দেশ। ঘোড়ায় টানা গাড়িতে করে কাছের ভোটকেন্দ্রে যেতে অনেক সময় লেগে যেত কৃষকদের। শনিবার ছিল ফসলের মাঠে কাজের দিন। ধর্মকর্মের কারণে রোববারও দূরে যাওয়া যেত না। আর বুধবার ছিল বাজারের দিন। মাঝখানে বাকি রইল মঙ্গলবার। এ কারণেই মঙ্গলবারকে ভোটের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। আর মাস হিসেবে নভেম্বরকে বেছে নেওয়ার কারণ সে সময় নভেম্বর মাস পড়তে পড়তে যুক্তরাষ্ট্রে ফসল কাটা শেষ হয়ে যেত। নভেম্বর শেষ হতেই শীত নামত জাঁকিয়ে। তাই তো নভেম্বরকে ভোটের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

তবে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে তারা তাতে আপত্তি জানাবে। তাই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেটে এ বিষয়ে ভোটাভুটিতে যাই ফলাফল হোক। এজন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কখনও স্থগিত হবে না।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের নানা আইন তুলে ধরা হয়।


ট্রাম্পকে দেয়া হচ্ছে রেমডেসিভির

মহামারি করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আনুমানিক ১৭ ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে করে দেশের একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম রাত হাসপাতালে কাটিয়েছেন তিনি। আরও বেশ কিছু সেখানেই থাকতে হতে পারে। ইতোমধ্যে তাকে রেমডেসিভির দিতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আরও কয়েকদিন ‘ওলটার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার’ হাসপাতালে কাটাতে হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। তার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করছেন চিকিৎসকেরা। তিনি খুব ভালো আছেন। তাঁকে অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন নেই। তাকে অ্যান্টিবডির বিশেষ ককটেলও দেয়া হয়েছে।

মেরিল্যান্ডের এই হাসপাতালেই ট্রাম্পের করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা চলছে। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসা কর্মকর্তা সিন কনলি বলেন, ট্রাম্পকে অক্সিজেন দেয়া লাগবে না কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রেসিডেন্টের ফুসফুসের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে রেমডেসিভির ওষুধ দিয়ে তার চিকিৎসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সিন কনলি আরও বলেন, ট্রাম্পকে রেজনারনের অ্যান্টিবডি ককটেলের একটি ডোজ দেয়া হয়েছে। এই চিকিৎসাপদ্ধতি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি দল ট্রাম্পের চিকিৎসা করছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব কেলেইজ ম্যাকেনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা আগামী কয়েকদিন ওয়াল্টার রিড থেকে ট্রাম্পকে দায়িত্বপালন করার পরামর্শ দিয়েছেন। হাসপাতালের বিশেষ একটি কক্ষে ট্রাম্প থাকবেন।

মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়ায় স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ট্রাম্পকে মেরিল্যান্ডের ওই সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় এক লিখিত বিবৃতিতে হোয়াইট হাসের চিকিৎসক সিন কনলি জানান, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি প্রেসিডেন্ট ভালো আছেন। কিছুটা ক্লান্ত হলেও তিন এখন সুস্থসবল আছেন।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পও হাসপাতাল থেকে শনিবার এক টুইট বার্তায় তার শারীরিক অবস্থার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সবকিছু ভালোমতো চলছে।’ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক ৩২ দিন আগে ট্রাম্প করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ায় দেশটিতে এক রাজনৈতিক অচলাবস্থার তৈরি হয়েছে।

তবে বয়স এবং ওজনের কারণে ৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা গুরুতর আকার ধারণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এদিকে ফার্স্ট লেডি ৫০ বছর বয়সী মেলানিয়া ট্রাম্পের শরীরেও মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে। হাল্কা কাশি এবং মাথাব্যাথায় ভুগছেন তিনি।