logo

সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯ মাঘ, ১৪২৪

header-ad
রাঙ্গামাটিতে হরতাল চলছে

ফের সন্ত্রাসী হামলা, আ.লীগ নেত্রীসহ আহত ৩

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি | আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭

 

রাঙ্গামাটিতে যুবলীগ নেতা হত্যার প্রতিবাদে হরতাল চলার মধ্যেই জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ঝর্ণা খীসাকে কুপিয়ে জখম করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় তার পরিবারের বাকি সদস্যরা আহত হন। তারা হলেন- তার স্বামী জীতেন্দ্র লাল চাকমা ও ছেলে রণবিষ্ণ চাকমা। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে রাঙ্গামাটি শহরের বিজয় নগর এলাকায় ভালেদী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তাদের আশংকাজনক অবস্থায় রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপতালে ভর্তি  করা হয়েছে।

ঝর্ণা খীসা অভিযোগ করেন, ভোর রাতে ১০-১৫ মুখোশধারী সশস্ত্র যুবক ঘরে ঢুকে আমাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় আমার স্বামী ও সন্তান আমাকে বাঁচাতে আসলে তাদেরও সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আমি তাদের বলছিলাম কেন আমাদের মারছ? তারা  অশ্লীলভাষায় গালি দিয়ে বলে, বক্তব্য দেওয়ার খুব ইচ্ছা তাই না। ভবিষ্যতে আর এ মুখে বক্তব্য দিতে পারবি না। তখন আমি বুঝতে পেরেছি গত বুধবার বিকালে জুরাছড়ি যুবলীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে ও হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখার অপরাধে তারা আমাকে মারছে।

 রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা করছে একটি নামধারী সশস্ত্র গ্রুপ। আমরা এ নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এসব ঘটনায় আজ আমরা রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছি। বিকালে রাঙ্গামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা ওতার পরিবারকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হবে।

এদিকে, জুরাছড়ি উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু চাকমা হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে রাঙ্গামাটিতে জেলা যুবলীগের ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে হরতালের সমর্থনের মাঠে নামে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হরতালের কারণে রাঙামাটি শহরের সকল দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে। জেলার বাইরে ও অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ৬টি নৌ-রুটেও সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে পিকেটিং করতে দেখা গেছে যুবলীগের নেতাকর্মীদের।

রাঙ্গামাটি জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আকবর হোসেন চৌধূরী জানান, পরিকল্পিতভাবে প্রথমে জুরাছড়ি উপজেলা যুবলীগের নেতা অরবিন্দু চাকমাকে হত্যা করেছে। পরে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাসেল মার্মা ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসাসহ তার পরিবারকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা এসব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কতোয়ালি থানার কর্মকর্তা (ওসি) সৎজীত বড়ুয়া জানান, হরতাল চলাকালে বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর ও জুরাছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সাবেক ইউপি মেম্বর অনাধী রঞ্জন চাকমা ও উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু চাকামা।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই/আরবি