logo

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪

header-ad

ধানের শীষ চান গাজী সিরাজ উল্লাহ

এএইচএম কাউছার,চট্টগ্রাম | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে লড়তে চান। নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয়ে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোরের এর চট্টগ্রাম প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নে আমার গ্রামের বাড়ি। আমার পিতা মরহুম গাজী দুলা মিয়া শহীদ জিয়ার আমলে থানা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমি ১৯৮৭ সালে বড়লিয়া ইউপি ছাত্রদলের সাধারন কর্মী হিসেবে রাজনৈতক জীবন শুরু করি। ১৯৮৮-৮৯ সাল পর্যন্ত বড়লিয়া ইউপি ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ছিলাম। ১৯৯০ সালে কৃষি স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৯১-৯২ সালে পশ্চিম পটিয়া এজে চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ৯৩-৯৪ সালে হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রী কলেজে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম। ১৯৯৫ সালে পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯৬-৯৭ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক পরে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। ১৯৯৭-২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দলের সহ সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম।

আমি বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরে রাজনীতি করি। তবে পটিয়া হচ্ছে আমার রাজনীতির মূল শিখর। পটিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নের তৃণমূলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সাথে আমার সুসর্স্পক। পটিয়া থেকে আমি আগামী একাদশ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে চাই। বর্তমানে পটিয়ায় বিএনপিতে অন্তকোন্দল। এই কোন্দলের উদ্ধে উঠে সবাইকে সাথে নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় যুক্ত করে দেশনেত্রী বেগম খালেদার জিয়ার ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করবো।

আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। তাই পটিয়া বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দলের মনোনয়ন চাচ্ছি। আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও এলাকার জনসমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করে দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন,চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কাজ শেষ করে প্রতি সপ্তাহেই এলাকায় ছুটে যাই। দলকে তৃণমূলে শক্তিশালী করা ও নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন-২০৩০ নিয়েও আলোচনা করছি। রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মসূচি ছাড়াও এলাকার যে কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকি।

মনোনয়ন বিষয়ে গাজী সিরাজ উল্লাহ বলেন, বর্তমান দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনগণ তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দলের উচ্চ পর্যায় থেকেও তরুণ নেতৃত্বে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট থেকেই আমার নির্বাচন করার আগ্রহ।

গাজী সিরাজ উল্লাহ বলেন, মনোনয়ন পেলে আমার নির্বাচনী ইশতেহার হবে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা। বিশেষ করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব। যাতে করে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়। আমার ইচ্ছা প্রতিটি পরিবারের একজন যুবককে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা।

সিরাজ উল্লাহ বলেন, আমি বিএনপির মনোনয়ন পেলে ও ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হলে শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পটিয়া গড়ার প্রত্যাশা আমার রয়েছে। এছাড়াও উন্নয়ন বঞ্চিত পটিয়াকে সামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমি সচেষ্ট থাকব ।

এসময় খালেদা জিয়ার মামলা বিষয়ে গাজী সিরাজ বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরিণাম শুভ হবে না। আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি। খালেদা জিয়াকে মামলার বেড়াজালে আটকে রেখে সরকার একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। খালেদা এদেশের জনগণের নেত্রী। তার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দাঁড়াবে ছাত্রদল।

গাজী সিরাজ বলেন, সরকারের অব্যাহত মামলা-হামলা, বাক স্বাধীনতা হরণ ও দলীয় কর্মীদের হত্যার মুখে ছাত্রদলের কর্মীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের এক মাত্র পথ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এখানে বাধা আসলে প্রতিহত করা। ছাত্রদল কর্মীরা আগামী দিনে বাধাহীন পথ চলা শুরু করবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

গাজী সিরাজ বলেন, ১/১১ সময় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হলে আমি প্রথমে এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী ব্রীজ এলাকায় মিছিল বের করলে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে ১১ মাস জেলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আমি সপ্তাহে দু’দিন সরকারি ছুটি বাদ দিলে মাসে কর্মদিবস সাধারণত ২২ দিন। এ ২২ দিনের মধ্যে ২০ দিনই আদালতে হাজির হতে হয় । কারণ আমার বিরুদ্ধে রয়েছে ৬৪টি মামলা। মামলার ভারে ভারাক্রান্ত আমি। পরোয়ানা থাকার কারণে হাসপাতালে মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের শয্যাপাশ থেকে যেমন পুলিশের ভয়ে পালাতে হয়েছে আমাকে তেমনি বঞ্চিত হতে হয়েছে মায়ের নামাজে জানাজা থেকেও।

এমন দুঃখ ও কষ্টের কথা উল্লেখ করে গাজী সিরাজ বলেন, কেবল বিরোধী দলের রাজনীতি করি বলেই এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নগরীর যেখানেই মামলা হয়েছে সেখানে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে আমার নাম। হোক সে মামলা মিথ্যা বা সত্য। বলেন, সব মামলায় জামিন নিয়েছেন সত্যি কিন্তু মাসে কর্মদিবসের ২০ দিনই আমাকে আদালতে হাজির থাকতে হয়। আজ এ মামলার শুনানি তো কাল ওই মামলার। চট্টগ্রামের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হাজির না হলেই আবার ওয়ারেন্ট।

তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলায় রাজনৈতিক হয়রানিমূলক দাবি করে গাজী সিরাজ বলেন, এভাবে মামলার জালে একজন ছাত্রনেতাকে আটকালে ভবিষ্যতে ছাত্ররা রাজনীতি থেকে আগ্রহ হারাবে।

ফেমাসনিউজ২৪/এমএইচ/আরকে