logo

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

সড়ক ভাঙা, ভাঙল বিয়েও

সিলেট প্রতিনিধি | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৮

সিলেট নগরীর খাসদবীর এলাকার ইয়ারব আলী। স্বজনদের নিয়ে কনে দেখতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানা বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। নগরীর পেরিয়ে কোম্পানীগঞ্জের রাস্তায় যেতেই পড়েন মহাদুর্ভোগে। ভাঙাচোরা রাস্তা সেইসঙ্গে ধুলো। পথে পথে ভোগান্তি পেরিয়ে তবুও ছুটে চলেন কনের বাড়ির দিকে।

সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের তেলিখাল এলাকায় পৌঁছার পর গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে স্প্রিং ভেঙে বিকল হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে সিলেট থেকে আরেকটি গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে কনের বাড়ি যান।
কনের বাড়ির আথিতেয়তায় মুগ্ধ সবাই। কনেও পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু বাড়ি ফিরে মত পাল্টে ফেলেন ইয়ারব আলী ও তার স্বজনরা। এতো দুর্গম এলাকায় বিয়ে না করা সিদ্ধান্ত নেন তারা। একমাত্র রাস্তার কারণেই ইয়ারব আলীর বিয়ে ভেঙে যায়। এমনকি ওই এলাকায় আর কখনও যাবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

শুধু ইয়ারব আলী নন, যিনি এই রাস্তা দিয়ে একবার গেছেন বিপদ আপদ ছাড়া ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার নাম নেবে নেননি তিনি।

২০১৪ সালের মে মাসে সড়কটি পরিদর্শন করে এটিকে ‘ক্যানসার আক্রান্ত সড়ক’ বলে মন্তব্য করেন খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সে সময় তিনি সড়কটি পুননির্মাণের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালের মে থেকে ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পুননির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্যয় বাড়িয়ে ৬১৮ কোটিতে দাঁড়ায়। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে সড়কটি নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ সাত বছর ধরে বেহাল সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক। ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের কোথাও এখন পিচ কিংবা ঢালাই নেই। ইট-পাথরের খোয়াও দেখা যায় না। সড়কটি এখন কাচা মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের বড়শালা, ধোপাগুল, ছালিয়া, সালুটিকর, মিত্রিমহল, খাগাইল, বর্ণি, তেলিখাল, কোম্পানীগঞ্জ সদর, টুকেরবাজার, পাড়ুয়া ও ভোলাগঞ্জ অংশের অবস্থা বেশি খারাপ। এসব স্থানে গর্তে যানবাহন পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ভাঙাচোরা হওয়ায় যানবাহনও চলে এঁকেবেঁকে। খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তির নতুন মাত্রা যোগ করেছে ধুলো। উন্নয়নকাজ চলার কারণে ধুলোর রাজত্বে ভোগান্তির শেষ নেই এ সড়কের সাধারণ যাত্রীদের।

দুর্ভোগে পড়ে বিয়ে ভেঙে দেওয়া ব্যবসায়ী ইয়ারব আলী বলেন, ‘এ পথে মানুষ পারতপক্ষে যায় না, এমন কথা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল। এ সড়কে চলতে গিয়ে বুকে কাপন ধরে। রাস্তা এতোটাই খারাপ কেউ শখ করেও যাতায়াত করবে না।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেলিখালের আবদুল আলিম বলেন, ‘সড়ক যখন ভালো ছিল, তখন কোম্পানীগঞ্জ থেকে সিলেটে যেতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগতো। আর এখন তিন ঘণ্টায়ও সিলেটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, ‘সড়কটি পুননির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতেই চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে ভোগান্তি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় একদিকে রাস্তা ছেড়ে অন্যদিকে কাজ করা হয়। পরে অপরদিকের রাস্তা খুলে কাজ হওয়া অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।’

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ