logo

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

সুন্দরী তানিয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য

সিলেট প্রতিনিধি | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮

একের পর এক বেরিয়ে আসছে সুন্দরী তানিয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিলেটের মা ও ছেলের খুনের ঘটনার পর ইয়াবা রানির দেহ ব্যবসার তথ্য এখন পুলিশের হাতে। গত ১ এপ্রিল সিলেট নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকায় একটি ভবনের নিচতলার কক্ষ থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আটক করা হয় সুন্দরী তানিয়াকে। সিলেটের পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, খুনের ঘটনায় তানিয়া জড়িত।

তানিয়া পুলিশকে জানান, তাকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলেন নিহত রোকেয়া বেগম। সেখানে থ্রি-স্টার হোটেলে তানিয়াকে পর পুরুষের হাতে ঠেলে দিয়েছিলেন রোকেয়া। কিন্তু এতে রাজি ছিলেন না তানিয়া। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাকে কক্সবাজারে গিয়েও ওই পুরুষদের মনোরঞ্জন করতে হয়। শয্যাসঙ্গী হতে হয় একাধিক পুরুষের।

পিবিআই সূত্র জানায়, সুন্দরী হওয়ার কারণে তানিয়ার চাহিদা ছিল। সেই সুযোগটি নিয়েছিল রোকেয়া বেগম। সিলেটের কয়েক যুবক রোকেয়ার সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করেন। এরপর তানিয়াকে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে যান। রোকেয়া ওই সময় বলেছিল, কক্সবাজার বেড়ানের খরচ তুলতে হবে। এ জন্য তানিয়াকে ব্যবহার করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, রোকেয়া ও তার ছেলে রূপম খুন হন মার্চের ৩০ তারিখ। ওই মাসের প্রথমদিকে তারা কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন তানিয়াও। তবে কারা রোকেয়াকে কক্সবাজার নিয়ে গিয়েছিল তা তানিয়া স্পষ্ট করেননি। জানা গেছে, রোকেয়ার সঙ্গে সিলেটের কয়েকজন যুবক ছিল।

পুলিশ জানায়, রোকেয়া ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। কক্সবাজার থেকে তিনি ইয়াবা কিনে নিয়ে আসেন। সেদিন রোকেয়া ইয়াবার চালান নিয়ে আসার জন্যই কক্সবাজার গিয়েছিলেন। এ নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ তদন্ত করে জানায়, তানিয়া রোকেয়াকে বড় আপা বলে ডাকতেন। কিন্তু নিহত রোকেয়ার ছেলে রূপমের বাড়াবাড়ি তানিয়ার কাছে ছিল অসহনীয়। ঘরের মধ্যে সবার সামনে তানিয়াকে ঝাপটে ধরতো সে। তাতে রোকেয়া কোনো বাধা দিতেন না। তানিয়ার কাছে বিষয়টি বিরক্তিকর ছিল।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত রোকেয়ার বাসাটি ছিল সেক্স স্পট। দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের পুরুষদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। বাসা ছাড়াও হাই-প্রোফাইল কয়েক পুরুষের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাদের সঙ্গে রোকেয়ার মোবাইল কথা হতো। তার কললিস্ট ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে। ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে দিলারা নামে আরেক নারীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল রোকেয়ার। কিন্তু রোকেয়া খুনের পর দিলারা আত্মগোপনে চলে যান।

সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশের রিমান্ডে থাকা নিহত রোকেয়ার প্রেমিক নাজমুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খুনের ঘটনার সঙ্গে নাজমুলসহ একটি চক্র সহযোগী হিসেবে ছিল। খুনের ঘটনার দিনও রোকেয়ার ঘরে একান্তে কাটিয়েছেন নাজমুল।
ফেমাসনিউজ২৪/প্রতিনিধি/এফএম/এমএম