logo

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

প্রেমিকের সঙ্গে প্রেমে মজে ছেলেকে পুড়িয়ে মারেন মা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৮

প্রেমিকের সঙ্গে প্রেমে মজার ঘটনা দেখে ফেলায় ছেলেকে পুড়িয়ে মারেন মা। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ৯ বছর বয়সী ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মা শেফালী বেগম।

শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট-২ আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে এ জবানবন্দি দেন তিনি।

শুক্রবার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেফালীকে সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আসামি শেফালী বেগমের জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কাসেম।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি জানান, স্বামী বিদেশ থাকায় প্রায় দুই বছর আগে শেফালী বেগমের সঙ্গে মোমেনের সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। মোমেন গোপনে মোবাইলে শেফালীর আপত্তিকর ছবি তুলে তাকে ব্লাকমেইল করে অবাধ মেলামেশা করতে থাকেন।

এসআই জানান, মোমেন ক্যাডার হওয়ায় আশপাশের লোকজন এ ব্যপারে কিছু বলার সাহস পেত না। তবে বিষয়টি সবার মুখে মুখে ছিল।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মোমেন শেফালীর ঘরে গেলে গভীর রাতে হৃদয় হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোমেন ও শেফলী শিশু হৃদয়ের শ্বাসরোধ করে কাঁথা মুড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

আবুল কাসেম জানান, মুহূর্তেই হৃদয়ের শরীর ঝলসে যায় এবং পাশে থাকা তার ছোট ভাই জিহাদের গায়ে আগুন লেগে যায়। হৃদয় দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এর মধ্যে মোমেন দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায়।

শেফালী এ হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রেমিক মোমেনকে দায়ী করেছেন বলে জানান এসআই।

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, প্রায় ১১ বছর আগে বাড়ৈপাড়ার বিল্লালের ছেলে প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সুন্দর আলীর মেয়ে শেফালীর বিয়ে হয়। পরে তাদের দুই ছেলের জন্ম হয়।

তিনি জানান, আনোয়ার বিদেশে থাকার সময় মোমেনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন শেফালী। ওই হত্যাকাণ্ডের পর শেফালীকে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়।
ফেমাসনিউজ২৪/প্রতিনিধি/এফএম/এমএম