logo

বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

header-ad

এবার প্রধানমন্ত্রীর দেখা চায় সেঁজুতি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৮

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার প্রমিজ চাইল্ড একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সৈয়দা রওনক জাহান সেঁজুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়। সোমবার দুপুরে সে এই আবেদন জানায়। সে বলে, ‘আমার দাদু মরে গেছে। আমার কোনো দুঃখ নাই। আমার নতুন দাদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার পাঠানো চিঠির উত্তর দিয়েছে, এতেই আমি খুশি।’

উপজেলার মোগরাপাড়ায় গিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদ হোসাইন মিয়ার (পাপ্পু) বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকে সেঁজুতি ও তার পরিবার। তার বাবা মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি বিদ্যায়তনের সহকারী শিক্ষক। মা নাজমা বেগম সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক। তার বড় ভাই সৈয়দ রাসেল মাহ্মুদ সাকিব সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইউএস-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসা কর্মকর্তা। ছোট ভাই সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়েন।

২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর সেঁজুতির দাদু জুলেখা খাতুন মারা যান। সে সময় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে তার দাদুর চেহারা দেখতে পায়। সেই সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গত ২৫ মার্চ সে একটি চিঠি লেখে। এই চিঠি গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবর পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। এই চিঠিতে সে উল্লেখ করে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসসালামু আলাইকুম, তুমি কেমন আছ? দাদুকে হারিয়ে আমি ভাল নেই। তোমার মুখ আমার দাদুর মুখের মতো। বিশেষ করে তোমার নাক আমার দাদুর নাকের মতো। তাই আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তোমাকে টিভিতে দেখলে আমার দাদুর কথা মনে পড়ে। আমি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি। তুমি আমাদের বাসায় বেড়াতে এসো।’

গত ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সেঁজুতির বাবা সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার মেয়ের লেখা একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়। গত ২২ এপ্রিল পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সেঁজুতির চিঠির উত্তরে লেখেন, ‘প্রিয় সেঁজুতি, তোমার লেখা চিঠি পেয়েছি। আমার স্নেহ এবং শুভেচ্ছা গ্রহণ কর। আশা করি, তুমি বাবা, মা এবং বন্ধুদের নিয়ে খুব ভাল আছ। তোমার চিঠিটি আমি কয়েকবার পড়েছি। তোমার দাদুর জন্য দোয়া করেছি। তোমার দাদুকে মহান রাব্বুল আলামিন বেহেশত নছীব করুন। তুমি মনোযোগ দিয়ে লেখাপাড়া করবে এবং নিয়মিত স্কুলে যাবে। বাবা-মায়ের কথা শুনবে এবং বড় হয়ে দেশের সেবা করবে। তোমার জন্য আমার একটি ছবি পাঠালাম। অনেক অনেক দোয়া আর আদর রইল।’

সেঁজুতির বাবা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চাকরির সুবাদে তিনি ছেলে-মেয়ে নিয়ে সোনারগাঁয় বসবাস করেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানের অনুপ্রেরণায় মেয়ে সেঁজুতির লেখা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। চিঠি পাঠানোর পর কোনো উত্তর না পেয়ে তার মেয়ে প্রথমে হতাশ হয়। পরে তা কেটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি গর্ববোধ করে বলতে চাই, আমার মেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ছবি ও চিঠি পেয়ে যেভাবে আমাদের ধন্য করেছে, সেভাবে তার জীবন গড়ে উঠুক।’

সেঁজুতির মা নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার ছোট্ট মেয়ের চিঠির উত্তর প্রধানমন্ত্রী দেবেন, এটা কখনো কল্পনাই করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ছবি সব সময় বুকের কাছে গুঁজে রাখে মেয়ে। সে বলে, আমার নতুন দাদুকে আমি পেয়েছি। আমার আর কোনো কষ্ট নাই।’

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ