logo

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

গফরগাঁওয়ে এগিয়ে আছেন ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০১৮

 

সারাদেশের মতো ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরদার নির্বাচনী ডামাডোল চলছে। উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের ৮ ইউনিয়ন নিয়ে পাগলা থানা হয়েছে। দুই থানা ও এক পৌরসভা নিয়ে এই নির্বাচনী এলাকা। এখানে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ১১ নেতা ও বিএনপি থেকে চার নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে নবীন ও প্রবীণ নেতারা রয়েছেন।

তবে, এরমধ্যে বর্তমান সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুলের মধ্যেই লড়াই হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। ক্লিনম্যান ইমেজের কারনে অনেকটাই এগিয়ে আছেন বুলবুল আর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে জনগন বাবেলকে এমপি হিসেবে আর দেখতে চায় না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এমপি ছিলেন। একবার ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। বিএনপি এখানে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে ততটা চমক দেখাতে পারেনি। আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের মৃত্যুর পর তার পুত্র ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলও নির্বাচনী রাজনীতিতে অপরাজিত। পিতার মতো তিনিও প্রথমে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু তিনিও কায়েম করেন সন্ত্রাস ও লুটপাটের রামরাজত্ব। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকব্যবসা, চোরাচালান, জমি দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরূদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের অভিযোগও। পাশাপাশি টিআর-কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুটপাট, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ দলের ভিতর কোন্দল জিইয়ে রাখছেন তিনি।

এসব ঘটনায় কখনো কখনো তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবার কখনো ছেলে-মেয়ে, নিকটাত্মীয় ও দলের নিজস্ব ক্যাডারবাহিনী দিয়ে ঘটাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, এ আসনে সাতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অপরাজিত আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আবুল হাশেম, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। শুধু ১৯৭৯ সালে বিএনপির ফজলুর রহমান সুলতান ও ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির এনামুল হক নির্বাচিত হন।

চলতি বছরের শেষার্ধে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার কারণে যোগ্যপ্রার্থী হিসেবে উপস্হাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সৎ, বিনয়ী, পরীক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এমন প্রার্থীদের তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয়তা বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব মানবিক-রাজনৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন প্রার্থীদের ঘিরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ-১০ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ, সমাজসেবক ও এলাকার নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের একমাত্র ভরসা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা গফরগাঁওয়ের প্রাণপুরুষ ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল জনপ্রিয়তার দিক থেকে এখন সাধারণ মানুষের মাঝে দৃঢ় অবস্হানে রয়েছেন। দিন দিন এই জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করে তা এখনও অব্যাহত রেখেছেন এবং এলাকার সকল মানুষের সমস্যা-সংকটে তাদের পাশে দাড়িয়েছেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে তার শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে উঠেছে।

এছাড়াও ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল এলাকায় সদালাপি, কর্মীবান্ধব ও ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত, যা তার জনপ্রিয়তাকে সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি করে চলেছে। ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুলের কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ খুবই সন্তুষ্ট। তারা বলেন, এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকছেন। উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল কাছের মানুষ।

এদিকে খুব বেশি প্রচার-প্রচারণায় না থাকলেও মাঠে আছেন তিনি। স্হানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। স্হানীয় রাজনীতিতে তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, তৃণমূলে ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। মানুষের মধ্যে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। তাই তাকে মনোনয়ন দিলে দল লাভবান হবে।

স্হানীয় বাসিন্দারা বলেন, ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল একজন নিরহংকার মানুষ। জনগণের প্রাণপ্রিয় একজন নেতা। তিনি আগামীতে ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের জন্য আশীর্বাদ হবে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/জেডআর/এমআর