logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল তিস্তা সেতু

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে লালমনিরহাটের দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। শুক্রবার ভোরে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর প্রান্ত ৫/৬ গজ ধসে গেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানান, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীক রুট বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ও বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব কমিয়ে আনতে তিস্তা নদীর 'কাকিনা-মহিপুর' ঘাটে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ করেছে সরকার। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্বেশ্বর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল এ সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেতু বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দফতর। ২০১৪ সালের ৩১ জুন নির্মাণ কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন। এরই মধ্যে সেতুর কাজ বুঝে নিয়েছে বাস্তবায়নকারী কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দফতর।

১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুতে রয়েছে ১৬টি পিলার, ২টি এপার্টমেন্ট, ১৭টি স্প্যান, ৮৫টি গার্ডার। একই বরাদ্দে সেতুটি রক্ষার জন্য উভয় পাশে ১৩০০ মিটার নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর সঙ্গে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কাকিনা থেকে সেতু পর্যন্ত ৫.২৮০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২টি প্যাকেজে ৪ কোটি ৪৬ লাখ এবং এ সড়কে ২টি ব্রিজ ও ৩টি কালভার্ট নির্মাণে ৩টি প্যাকেজে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় হয়।

নির্মাণকাজ শেষ না হতেই ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। পরে ওই সড়ক বর্ধিত করার নামে ২টি প্যাকেজে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। সড়কটি প্রস্থে ১২ থেকে ১৮ ফুট হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে আবারও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে তৃতীয় দফায় আবারও ৫ কিলোমিটার এ সড়কটি শক্তিশালী করার নামে বরাদ্দ দেয়া হয় ৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়।

কিন্তু এ সড়কে তিনগুণ অর্থ বেশি খরচ করেও কাজ হচ্ছে না। এ ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে তিন দফায় মোট ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও উদ্বোধনের আগেই ধসে যেতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১৪সেপ্টেম্বর) ভোরে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু উত্তর প্রান্ত ৪/৫ গজ ভেঙ্গে গেছে। ফলে জনসাধারনের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কে ২ ফুট এটেল মাটি দেয়ার কথা থাকলেও শুধু বালুর ওপর খোয়া দিয়ে দায়সাড়া কাজ করায় ধসে সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের কাজ ঢাকতে সড়কটি তিন দফা সংস্কার করেও চলাচলের উপযোগী করতে পারছে প্রকৌশল দফতর। এরই মাঝে ২টি ব্রিজ ও ২টি কালভার্টের মোকা ধসে পড়েছে। যা জিও ব্যাগ ফেলে আটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করা হচ্ছে। ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে সড়ক।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খান জানান, নদী প্রতিমুহূর্তে তার গতিপথ পরিবর্তন করে থাকে। সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার সময়ের গতিপথ অনুযায়ী সেতু ও নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন কোনোভাবে নদী গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এটা পর্যালোচনা বা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া তার কাজ নয়। সেটা দেখবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের যে কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/কেআর/এস