logo

সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

সেই টুম্পাকে খুঁজছে পুলিশ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গর্ভধারিণী মাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা সেই টুম্পা খাতুনকে খুঁজছে পুলিশ। আজ শুক্রবারও তার সন্ধান পায়নি পুলিশ। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামে মাদকাসক্ত মেয়ের হাতে মা খুনের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে টুম্পা খাতুন (২৪) ওরফে মারিয়াকে একমাত্র আসামি করে পাটকেলঘাটা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন।

ঘটনার রাতে নিহত মমতাজ খাতুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ উদ্ধার করতে গেলে কৌশলে পালিয়ে যান টুম্পা।এরপর থেকে টুম্পাকে এলাকায় আর দেখা যায়নি। মায়ের লাশ দাফনের সময়ও ছিল না টুম্পা।

পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, মমতাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে নিহতের মেয়ে টুম্পা খাতুনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন, যার মামলা নং ৫।

তিনি বলেন, লাশের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকান্ড বলে পুলিশ মনে করছে। টুম্পা খাতুনকে গেফতারে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টম্বর সোমবার সকালে নগরঘাটা গ্রামের মৃত আব্দুর সবুর সরদারের স্বামী পরিত্যক্তা কন্যা টুম্পা খাতুন পারিবারিক কলহের জের ধরে মা মমতাজ খাতুনকে (৫০) ঝগড়ার একপর্যায়ে রড দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে মমতাজ খাতুন মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতে খুলনার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।
এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তার মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে এলাকায় প্রচার করে মেয়ে টুম্পা খাতুন।

পুলিশ ঘটনার রাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এরই মধ্যে কৌশলে পালিয়ে যান টুম্পা।

স্থানীয়রা জানান, টুম্পা খাতুন ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করতেন। বেপোরোয়া চলাফেরার কারণে তিন বছর আগে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। মা এগুলোর বিরোধিতা করায় মাকে প্রায়ই মারধর করতেন টুম্পা। মাকে হত্যার পর স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে প্রচার করতে থাকে টুম্পা। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধারকালে টুম্পা পালিয়ে যায়। সেই থেকে পলাতক রয়েছেন টুম্পা।

জানা গেছে, টুম্পা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল সাতক্ষীরার সংরক্ষিত আসনের এমপি মিসেস রিফাত আমিনের ছেলে রুমনের সাথে। প্রায় আড়াই বছর আগে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। টুম্পা খাতুন প্রায় তার মাকে মারধর করতেন। স্বামাীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে টুম্পা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। উশৃঙ্খল জীবন যাপন শুরু করেন। তার একমাত্র ভাই শরীফও নেশাগ্রস্ত। টুম্পার একটি ৩ বছর বয়সের ছেলে রয়েছে।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন নিহতের মেয়ে টুম্পা। মা হত্যার দায় থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তিনি।
ফেমাসনিউজ২৪/ প্রতিনিধি/এফএম/এমএম