logo

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

দিনাজপুর-১ আসনে আ. লীগের ২১ প্রার্থী

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর প্রতিনিধি | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৮

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও আরো ২৪ জন দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের সমর্থন ও বিরোধিতায় দুই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের এক পক্ষ মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে এ আসনে নতুন প্রার্থী না দিলে দল হেরে যেতে পারে। বর্তমান সংসদ সদস্যের পক্ষ বলছেন, মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিকল্প প্রার্থী নেই এ নির্বাচনী এলাকায়।

অন্যদিকে বিএনপিরও ৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। তবে জামায়াতের একজন শক্তিশালী প্রার্থী ভিন্ন কৌশলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। তার পক্ষেই জামায়াত ২৩ দলের পক্ষ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। জোটভিত্তিক নির্বাচনে গেলে বিএনপি ও জোটের শরিক জামায়াত হয়ে উঠতে পারে দলটির মূল প্রার্থী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী। জাতীয় পার্টি’রও ৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ জমাদানকারীরা হলেন, মনোরঞ্জনশীল গোপাল, বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম,বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা, বীরগঞ্জ কৃষক লীগের সভাপতি শিবলী সাদিক, সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক সরকার,সাবেক এমপি আব্দুল হক সবুজ,

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু, কাহারোল হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য সভাপতি গোপেশ চন্দ্র রায়, সাবেক জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল করিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকতারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল, বীরগঞ্জ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সমাপাদক নূর ইসলাম নূর, কাহারোল আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম ফারুক, বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার, বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাসিরুল হক রুন্তম, রীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম রফিক, সাবেক সচিব কাহারোল উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবুল শেম, নশিপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক প্রেভাষ চন্দ্র রায়, তশিদুল ইসলাম ও বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠরিক সম্পাদক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দেবশর্মা।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ জমাদানকারীরা হলেন, বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নেতা মনজুল ইসলাম মঞ্জু, কাহারোল উপজেলা বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন উর রশীদ মামুন ও কাহারোল উপজেলা বিএনপি নেতা মো. মেহেদী হাসান সুমন। তবে নির্বাচন কমিশনে দলের তালিকা বাদ গেলেও ভিন্ন কৌশলে জামায়াতের একমাত্র সম্ভাব্য প্রার্থী বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জামায়াত নেতা মাওলানা মোহাম্মদ হানিফও মনোনয়রপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদের এ আসনটিতে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল কাফী। মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। ওই সময় উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মনোরঞ্জন শীল গোপাল। এক সময় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এর নেতা পরে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২০০৮ সালে দলটির টিকিটে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারো সংসদ সদস্য হন।

বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরোধী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বীরগঞ্জ-কাহারোল নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল নিজের কপাল গুটিয়েছেন। এতে দলীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে বিরোধ বেড়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ছাড়াও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছেন বলে মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারা। অনেকে এমন কথাও বলেছেন, এ আসনে এবার প্রার্থী বদল না করা হলে আসনটি হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। এক সময় এ আসনটি পরিচিত ছিল জামায়াতের দুর্গ হিসেবে। যদি জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি নৌকার ভোটও নাকি বিএনপি জোটের বাক্সে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

বর্তমানে এ আসনে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ নয়, বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তৈরি হয়েছে গ্রুপে । বর্তমান এমপি গোপালের একটি গ্রুপ থাকলেও আর একটির নেতৃত্বে দিচ্ছেন, বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম। অপরটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা। ছাড়াও কাহারোল উপজেলায় সাবেক এমপি আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে রয়েছে আরেকটি গ্রুপ।

তবে মনোরঞ্জন শীল গোপালের অনুসারীরা জানান, এমপি সাহেব রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ এলাকার জন্য ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি। প্রতিটি লোকের সঙ্গে
তার সুসম্পর্ক আছে।ডাকলে পাওয়া যায় সহজেই তাকে। বিপদে-আপদে পাশে থাকেন তিনি।

অপরদিকে মনোরঞ্জন শীল গোপালের নানা দুর্বলতার কারণে এক সময় ছাত্রলীগ করা বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমান বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারমান ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় কর্মকা-সহ বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। নির্বাচনে তিনি মনোরয়ন প্রত্যাশী। ইতিমধ্যে তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এ দু’জন প্রতিনিয়ত সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে বলছেন। বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি’র অভিযোগ তুলেছেন তারা।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অনিয়মের অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ দিতে পারবে না। আর নেতাকর্মীদের মনোমালিন্য যা ছিলো তা মিটে গেছে। যারা বলছে, তারা দলী কেউ নয়। সুবিধাবাদী। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করি না, এটা ঠিক নয়। সবার সঙ্গে সমান আচরণ করে থাকি। পাশে থাকার চেষ্টা করি।

এদিকে বিএনপি-জামায়াত জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জামায়াত নেতা মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ। তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী। ইতিমধ্যে তিনি দলীয় লোকজনকে নিয়ে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। যদিও জামায়াত থেকে এককভাবে তিনি প্রার্থী হবে পারবেন না, তবুও ভিন্ন কৌশলে এরই মধ্যে এলাকা সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি জোটের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন উর-রশিদ মামুন আওয়ামী লীগের জন্য বড় ফ্যাক্টর। কাহারোলে তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

বীরগঞ্জ বিএনপির সভাপতি মনজুল ইসলাম মনজু আগামী নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের জনসমর্থন নিয়ে এলাকায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রচার চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি সব সময় অগ্রণী ভূমিকাও পালন করেন।

বিএনপি নেতা মনজুল ইসলাম মনজু বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আমি একজন। আমি ছাড়া বীরগঞ্জ-কাহারোলে বিএনপির অন্য কোনো প্রার্থী নেই। যদি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয় তাহলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আমি।

জাতীয় পার্টি’র এ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন ৩ জন। বীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি ও জেলা জাতীয় পার্টি’র যুগ্ম সম্পাদক হাসান মোহাম্মদ নিজাম উদ দৌলা, বীরগঞ্জ উপজেলা জাতয়ি পার্টিও সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম এবং জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম।তারা দলের মনোনয়ন পেতে লবিং করে যাচ্ছেন।