logo

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

মেয়েকে ধর্ষণ করে বাবা কারাগারে

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৮

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ভূমিহীন পাড়ায় ১২ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে স্ত্রী রশিদা বেগম বাদী হয়ে স্বামী আজাদ হোসেনের নামে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। পিতা আজাদকে (৪২) শুক্রবার আটক করেছে পুলিশ।

পিতার লালসার শিকার ওই কিশোরি মেয়ে বর্তমানে ৩ মাসের অন্ত:স্বত্তার অভিযোগ রয়েছে। আজাদ হোসেন দামুড়হুদা উপজেলার হরিশচন্দ্রপুর নতুন গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হরিশচন্দ্রপুর-নতুন গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আজাদ প্রায় বছর পনের আগে নিজ গ্রাম থেকে উঠে এসে কার্পাসডাঙ্গা ভুমিহীন পাড়ায় বসবাস শুরু করে। তাদের সংসারে রয়েছে ৩ মেয়ে। সে পেশায় একজন দিনমজুর। স্ত্রী রশিদা বেগম কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে রান্নার কাজ করেন। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজ মেয়ে বাড়িতেই ঘর গোছালির কাজ করে। প্রায় মাস চারেক আগে লম্পট পিতা আজাদ তার মেজ মেয়েকে ফুসলিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি লোকলজ্জার ভয়ে মেয়ে ওই সময় কাউকে না জানালেও মাস পেরুতে না পেরুতেই তার শারিরীক গঠনের পরিবর্তণ দেখা দেয়।

সম্প্রতি তার মা মেয়ের ইউরিণ পরীক্ষা করে জানতে পারে তার মেয়ে ২ মাসের অন্ত:স্বত্তা। লোকলজ্জা ঢাকতে বাচ্চা নষ্ট করারও চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে উত্তেজিত এলাকাবাসী শুক্রবার বিকেল ৫ টার দিকে লম্পট পিতা আজাদকে গণধোলায় দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে।

খবর পেয়ে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আসাদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আজাদকে আটক করে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করেন এসআই আসাদ। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে লম্পট পিতা ধর্ষণের কথা স্বিকার করলে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে লম্পট স্বামীর নামে মামলা করেছেন। মেয়েকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আজ শনিবার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। এ দিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকার সচেতন মহল বলেছেন, একটি মেয়ের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হচ্ছে তার পিতা। ওই লম্পট পিতার ফাঁসি হওয়া উচিত বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম