logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

গুরুদাসপুরে জমে উঠেছে শ্রমিকের হাট

নাজমুল হাসান নাহিদ, নাটোর প্রতিনিধি | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

বিনাচাষে রসুন উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টিকারী এলাকা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এবারে রসুন লাগানোর মৌসুমে প্রতিদিন দিনমজুরদের জমজমাট হাট বসছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলাধীন বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নয়াবাজার, কাছিকাটা, হাজীরহাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিনাচাষে রসুন লাগানো ও ধানকাটাসহ গেরস্থালী কাজের জন্য হাজার হাজার নারী-পুরুষ দিনমজুরের হাট এসে জমাট হয়। শীত উপেক্ষা করে পেটের তাগিদে প্রতিদিন ভোর ৫ টায় ওই সকল দিনমজুররা ওই হাটে আসে। ওই হাট থেকে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দিনমজুর খরিদ করে নিয়ে যায়।

ধারাবারিষা এলাকার কাউছার, নয়াবাজারের মুন্না, হাসমারীর তারেখ জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, সলঙ্গা, উল্লাপাড়া উপজেলা ও পাবনা জেলার চাটমহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাসড়কের নয়াবাজার, কাছিকাটা, হাজীরহাট পয়েন্টে ভোর ৪ টা থেকে এসব দিনমজুর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নছিমন-করিমন, ট্রাকে ও বাসের ছাদে চড়ে এসে হাট বসায় এবং সেখান থেকে নারী-পুরুষ দিনমজুররা দিনচুক্তি অথবা কাজচুক্তি হিসেবে উচ্চ মুল্যে মহাজনের কাছে বেচাকেনা হয়ে থাকে।

তবে কাজ অনুযায়ী তাদের আর্থিক চাহিদা বিভিন্ন পর্যায়ের হলেও মোটামুটি প্রতিদিন পুরুষ দিনমজুরের মজুরি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মহিলা দিনমজুরের মজরি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে মজার ব্যাপার হলো, বেলা বাড়লে বসে থাকা দিনমজুরের মূল্য আনুপাতিকহারে কম হয়ে থাকে। আবার সারাদিন না খেয়ে কাজ করার মজুরি এবং তিন সন্ধ্যা খাবার দিয়ে কাজ করার মজুরির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

তারা আরো জানান, যদিও মজুরী একটু বেশী তার পরও হাতের কাছে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের অনেকটা উপকারই হচ্ছে।

নয়াবাজার দিনমজুর হাটে অপেক্ষমান দিনমজুর ছাইকোলার আক্কাস আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তার সংসারে ৭ জন খানেওয়ালা এবং তার একার উপার্জনের ওপরই তাদের খাওয়া পরা নির্ভরশীল। তাই দিবারাত্রী কাজ করেও তার অভাব যায় না।

কাছিকাটা দিনমজুর হাটের মহিলা শ্রমিক ৪ সন্তানের জননী সুকজান বিবি জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর ছিল, এখন সে অর্ধাঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়ে সয্যাশায়ী। তাই তিনি সন্তানাদি ফেলে দিনমজুর হাটে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন তার ওপরেই সংসারের খাওয়া পড়া নির্ভর করছে।

তাড়াশের রনি,সিরাজগঞ্জের আলমগীর বলেন, ৩৫-৪৫ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছি। যেতে আবার ৩৫-৪৫টাকা লাগবে। ২শ’ টাকার মজুরীতে কি হয়। মজুরী একটু বেশী হলে ভাল হতো।

ফেমাসনিউজ২৪/ এসএ/ কেআর