logo

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

আমার ওপর সেতুমন্ত্রীর অনেক ক্ষোভ : শেখ হাসিনা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার ওপর সেতুমন্ত্রীর অনেক ক্ষোভ। কারণ তিনি আমার নামে পদ্মা সেতু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি নাকচ করে দিয়েছি।

২৪ ফেব্রুয়ারি রোববার দুপুরে চট্টগ্রামে এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রম এবং লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং প্রকল্পের ফলক উন্মোচন উপলক্ষে এ সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

পদ্মা সেতু নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে এত কিছু হয়ে গেছে, তখন সেটা পদ্মা সেতু নামেই থাকবে। এটার সঙ্গে আর কোনো নাম যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার মন্ত্রীকে বলবো- রাগ ক্ষোভ করার কিছু নেই। আমি কোনো নাম চাই না, কিছুই চাই না। কারণ আমি সব হারিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে আমরা পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়- বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আবার পদ্মা সেতু করার উদ্যোগ নিই। তখন সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। হঠাৎ মাঝামাঝি সময়ে তারা অভিযোগ আনলো- এখানে দুর্নীতি হয়েছে।

তিনি বলেন, এ সময় চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম- কোথায় দুর্নীতি হয়েছে তা দেখাতে হবে, দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক সেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কানাডার আদালতেও মামলা হয়েছে। পরে আদালত বলেছে- বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছে তা মিথ্যা, ভুয়া। এরপর নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, সেই পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান।

শেখ হাসিনা বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যিক শহরই নয়, এটি অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামের উন্নয়নেও কাজ করছে সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে। ২০১০ সালে এ টানেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। টানেল নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগের উন্নয়ন হবে না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নেরও উন্নয়ন হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জন্য এখনই আমরা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছি। উন্নয়ন পরিকল্পনাটা এমনভাবে নিয়েছি, যাতে ক্ষতির হাত থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষজন রক্ষা পায়। এসব দিকে লক্ষ্য রেখেই ব্যাপক উন্নয়নের কাজ চলছে।
ফেমাসনিউজ২৪/প্রতিনিধি/এফএম/এমএম