logo

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

১৫ হাজার ফুট ওপরে যেভাবে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খী ১৪২ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে দুবাইয়ে রওনা দেয়। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় বিমানটি। আকাশে ওড়ার পর পরই বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে ছিনতাইকারী। পুরো কাজটি করেন অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি।

বিমানটিতে থাকা একাধিক ক্রু ও যাত্রীরা সংবাদমাধ্যমকে এমন তথ্য দিয়েছেন।

একজন ক্রু জানান, বিকেল সাড়ে চারটায় কিছু সময় পর ময়ূরপঙ্খী আকাশে প্রায় ১৫ হাজার ফুট ওপরে দিকে উড়ে যাচ্ছিল। তখন বিমানটির ভেতরে যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি উঠে ককপিটের দিকে আসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি এক ক্রু'র কাছে গিয়ে ওই ক্রুকে ধাক্কা দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ একটি বস্তু বের করে বলেন, আমি বিমানটি ছিনতাই করব। আমার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। ককপিট না খুললে আমি বিমান উড়িয়ে দেব।

এর মধ্যে অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটকে গোপনে সাংকেতিক বার্তা দেন যে, বিমানে অস্ত্রধারী আছে, ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে। ঠিক এ সময় বিমানটি চট্টগ্রাম ও ঢাকার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছিল।

ওই ক্রু বলেন, বিমানটি আকাশের ১৫ হাজার ফুটের কিছু ওপরে উড্ডয়ন করছিল। এর মধ্যে পাইলট মো. শফি ও সহকারী পাইলট মো. জাহাঙ্গীর চট্টগ্রামগামী বিমানটির ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং কৌশলে জরুরি অবতরণের জন্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান।

'ককপিটের দরজা না খোলায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিটি চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী বিমানের ভেতরে ‘বিস্ফোরণের’ মতো ঘটান। ততক্ষণে বিমানটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে ওই অস্ত্রধারী ফ্লাইট স্টুয়ার্ট সাগরকে আটকে রেখেছে। অবতরণের পর কৌশলে বিমানের ডানার পাশের চারটি ইমারজেন্সি গেট দিয়ে যাত্রীরা নেমে পড়েন। যাত্রীরা নেমে আসা পর্যন্ত ক্রু সাগর ছাড়া ককপিটের ভেতরে তখন দুজন বৈমানিক ছিলেন।

বাংলাদেশ বিমানের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৬২ আসনের ময়ূরপঙ্খী বিমানে ইকোনমি ক্লাসে ১৩৩ জন ও বিজনেস ক্লাসে ৯ জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া পাঁচজন ক্রু, এর মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। ককপিটে দুজন পাইলট ছিলেন।

এদিকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে বিমান ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। তার নাম মেহেদী বলে জানা গেছে।

এর আগে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমান জানিয়েছিলেন, সংকটের সমাধান হয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, বিমানটি শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণের পর একজন সশস্ত্র ব্যক্তি পাইলটকে জিম্মি করে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন। তবে বিমান থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

বিমানটি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এটি চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। ঘটনার পর বিমানবন্দরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম