logo

রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬

header-ad

বিমান ছিনতাই, নিহত পলাশকে নিয়ে যা বললেন নায়িকা সিমলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত মো. পলাশ আহমেদ ও চিত্রনায়িকা সিমলাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য এক ভিডিও বার্তায় এসে কথা বলেছেন অভিনেত্রী সিমলা।

ভিডিও বার্তায় সিমলা বলেন, ‘২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে পলাশের পরিচয়। আমি পরিচালক রশিদ পলাশের 'নাইওর' ছবি করেছিলাম। সেদিন (১২ তারিখ) পরিচালক রশিদ পলাশের জন্মদিন ছিল। আমাকে সেখানে ইনভাইট করেছিলেন তিনি। আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই পলাশের (বিমান ছিনতাইচেষ্টাকারী) সঙ্গে আমার পরিচয় হয়।’

সিমলা বলেন, ‘এরপর ২০১৮ সালের ৩ মার্চ আমরা বিয়ে করি। ওই বছরেরই নভেম্বরে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে।’

পলাশকে ডিভোর্স দেয়ার তথ্য জানিয়ে নায়িকা সিমলা আরও বলেন, ‘ডিভোর্স দেয়ার কারণ ছিল। মূল কারণ হচ্ছে- মানসিক সমস্যা। পেশা হিসেবে আমি যেটা জানতাম-জানি সেটা হলো পরিচালক রশিদের 'কবর’ ছবিতে প্রযোজক হিসেবে ছিলেন পলাশ (বিমান ছিনতাইচেষ্টাকারী)। আমি তাকে (পলাশ) একজন প্রযোজক হিসেবেই চিনি।’

তিনি বলেন, আমি ঘটনার (বিমান ছিনতাইচেষ্টা) সবই শুনেছি। আমার এখন কী করা উচিত। যেহেতু উনাকে (পলাশ) আমি ডিভোর্স দিয়ে ফেলেছি। আমাদের ডিভোর্স হয়েছে চার মাস চলছে। গত বছরের নভেম্বর মাসের ৬ তারিখে ডিভোর্স হয়। এখন আমার কী করণীয় আছে?’

তিনি বলেন, তবুও একটা কথা থাকে এখানে। যেহেতু এত বড় একটা ঘটনা ঘটেছে। করেছে দুঃসাহসিক একটা ঘটনা উনি (পলাশ) এবনরমালেই করেছেন। যেটাই করেন না কেন এটা তো শোভনীয় নয়। এটা তো দেশের জন্য শোভনীয় নয়। এটা আমার দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। সেখানে যদি আমার দেশের স্বার্থের জন্য কোথাও ফেইস হতে হয়, কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, নো প্রোবলেম। আমি রেডি, নো প্রোবলেম।’

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার বিকালে দুবাইয়ের উদ্দেশে ক্রুসহ ১৪৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে বিমানটি।

বিমানের চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটটি যখন মাঝ আকাশে, তখন এক ব্যক্তি পাইলটকে অস্ত্র ঠেকিয়ে উড়োজাহাজটি জিম্মি করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের জরুরি অবতরণ করা হয়।

জরুরি অবতরণের পরপরই রানওয়েতে বিমানটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ। পরে সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হলেও একজন ক্রুকে ওই ছিনতাইকারী জিম্মি করে রাখে বলে সূত্রের খবর। পরে বিমানবন্দরে যায় সোয়াত টিম ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট। ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসও।

ঘটনাস্থল থেকে একাধিক সূত্র জানায়, বিমানের বিজি-১৪৭ নম্বর ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই এ ঘটনা ঘটে।

এরপরই দ্রুত ফ্লাইটের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়। বিমানটি রানওয়েতে অবস্থান করে এবং সেটি ঘিরে ফেলেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিমানবন্দরের একাধিক সূত্র জানায়, যাত্রীদের নামিয়ে আনলেও সাগর নামে একজন ক্রু ও ছিনতাইকারী বিমানটির ভেতরে রয়ে যান।

সেনা স্পেশাল ফোর্স ও নৌ কমোডর এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানের নেতৃত্বে নৌ কমোডর দলের অভিযানে সন্দেহভাজন ওই ছিনতাইকারীকে আহত অবস্থায় আটক করা হয় এবং আহতাবস্থায় ক্রু সাগরকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিমানটির সব যাত্রী-ক্রুরা সুস্থ রয়েছেন। বিমানের কোনো ক্ষতিও হয়নি।

এদিকে রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিমানের ভেতরে অভিযান চালানোর সময় ওই ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু সে অস্বীকৃতি জানালে গুলি চালানো হয়। পরে তার মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিমানে ক্রুসহ ১৪৮ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদে বের হয়ে এসেছেন।

রোববার রাতে নিহত ওই যুবকের পরিচয় নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। প্রথমে বলা হয়, তার নাম মাহাদী। পরে বলা হয় মো. মাজিদুল। তবে টিকিটে তার নাম মো. মাজিদুল লেখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। কিন্তু সোমবার তথ্য আসে- তার নাম মাহাদী ও মাজিদুল কোনোটিই নয়; তার নাম মো. পলাশ আহমেদ।

তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুরের দুধঘাটা গ্রামে। তার বাবার নাম পিয়ার জাহান সরদার। সে ওই উড়োজাহাজের ১৭/এ নম্বর আসনের যাত্রী ছিল। গ্রামের সবাই তাকে পলাশ নামেই চিনত।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি