logo

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

এবার ঘাম থেকেই চার্জ দিন ফোনে!

প্রযুক্তি ডেস্ক | আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৮

একটি ‘ট্যাটুর স্টিক’। এটি দিয়ে শারীরিক পরিশ্রম বা ট্রেনিংয়ে শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা পরিমাপ করা যাবে। পাশাপাশি তৈরি করা যাবে বিদ্যুৎও৷ আর তা হবে কিনা ঘাম থেকে!

ধরুণ আপনি দৌড়াচ্ছেন৷ সেই সঙ্গে শুনছেন এমপিথ্রি প্লেয়ারে গান। এজন্য যে বিদ্যুৎশক্তির প্রয়োজন, তা প্রস্তুত করছেন আপনি নিজেই!

এক গবেষণায় জানা যায়, শুধু ঘামের মাধ্যমেই তৈরি হয় বিদ্যুৎ৷ ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর একদল গবেষক এই মজার বিষয়টি বাস্তবায়িত করেন৷ নাম দিয়েছেন ‘ট্যাটু বায়োব্যাটারি’৷ ঘামের মতো শরীর থেকে নির্গত তরল পদার্থ দ্বারা যে শক্তি উত্পাদন করা যায়, এটি তার দৃষ্টান্ত৷

ঘামের ল্যাকটেট মাপা হয় একটি সেন্সর দিয়ে৷ ল্যাকটেট হলো এক প্রকার অণু, যা গ্লুকোজ থেকে মেটাবলিজমের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়৷ শারীরিক পরিশ্রমের সময় কোষে ল্যাকটেটের ঘনত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায়৷ ট্রেনিংয়ের সময় শারীরিক অবস্থা কেমন হয়, সেটা মাপা যায় ল্যাকটেটের পরিমাণ দেখে। আর অতিরিক্ত ল্যাকটেট তৈরি হলে দেহে চাপ পড়ে৷

এতদিন চিকিত্সকরা খেলোয়াড়দের দেহে ল্যাকটেটের পরিমাণ মাপার জন্য রক্ত পরীক্ষা করতেন৷ এখন তো বেশ সহজ পদ্ধতি বের হলো৷ ত্বকের ওপর ঘামেও থাকে ল্যাকটেটের অণু৷ একটি নতুন সেন্সর দিয়ে এটি মাপা যায়৷ অন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির চেয়ে এটা বিশদভাবে ফিটনেসের মাত্রা পরিমাপ করতে পারে৷

এই সেন্সর ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করা মাপার মতো কাজ করে৷ এটি ‘এনজাইম’বা এক ধরনের প্রোটিন, যা ল্যাকটেটকে পাইরুভিক বা পিরুভিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে৷ ফলে দুটি ইলেকট্রন উন্মুক্ত হয়৷ ইলেকট্রন অর্থ চার্জ, যা থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি উত্পন্ন হয়৷ ঘামে যত বেশি ল্যাকটেট থাকে, তত বেশি বৈদ্যুতিক শক্তি উত্পন্ন হয়৷ একটি যন্ত্রের সাহায্যে এই বিদ্যুৎ মাপা যায়৷ তা থেকে ঘামে ল্যাকটেট-এর ঘনত্বও বোঝা যায়৷ পাতলা সেন্সরটি স্টিকারে ঢুকিয়ে ত্বকের ওপরে লাগিয়ে দেওয়া যায়৷ ল্যাকটেট থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ দিয়ে ছোট ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্রও চালানো যায়৷ যেমন হার্টরেট মনিটর, স্মার্ট ফোন ইত্যাদি৷

তবে সেন্সরটি খুব ছোট বলে চার মাইক্রোওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না৷ একটি ঘড়ি চালাতে কমপক্ষে ১০ মাইক্রোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন৷ গবেষকরা জানান, সব মানুষ সমান বিদ্যুৎ উত্পন্ন করেন না৷ যারা সপ্তাহে তিন দিন খেলাধুলা করেন তাদের চেয়ে যারা সপ্তাহে একদিনেরও কম খেলাধুলা করেন, তারা বেশি বিদ্যুৎ উত্পাদন করেন৷

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই/আরবি