logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

ঘুমে সুখ বাড়ে!

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বেতন বাড়লে মানুষের জীবন ধারণ সহজ হয়। এ থেকে সুখ একটু বাড়বেই। প্রকৃত বেতন বাড়লে ‘ভালো থাকা’ যায়। বেতন বা ব্যয়যোগ্য আয় ৫০ শতাংশ বাড়লে মানুষের সুস্থতা ও সন্তুষ্টির বোধ যত বাড়ে, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত হলে তার চেয়ে বেশি সুখ বাড়ে। ব্রিটেনে এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। খবর আইরিশ টাইমস।

ব্রিটিশ নাগরিকদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে গবেষণা করেছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর সোস্যাল রিসার্চ ফর সেইন্সবারি’জ। এতে দেখা গেছে, মানুষের ‘ভালো থাকা’ বা সুখের অনুভূতি কম-বেশি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ঘুম।

দেখা গেছে, যারা যৌনজীবনে সন্তুষ্ট, যাদের চাকরির নিশ্চয়তা আছে এবং যারা স্বজন-পরিজনের সঙ্গে থাকে, তারা ভালো থাকার সূচকে (লিভিং ওয়েল ইনডেক্স) অনেক বেশি ওপরে আছে। এ সূচকে গড়পড়তা ভালো থাকা ব্রিটিশ নাগরিকের স্কোর ১০০ নম্বরের মধ্যে ৬২ দশমিক ২। আর যারা সবচেয়ে ভালো আছে, তাদের স্কোর ৭২ থেকে ৯২ পর্যন্ত। ব্রিটিশ জনগোষ্ঠীর এক-পঞ্চমাংশ এমন স্কোর করেছে। গড়পড়তা ভালো থাকা আর সবচেয়ে ভালো থাকার মধ্যে তফাত গড়ায় বড় ভূমিকা রেখেছে ঘুম।

বেতনের সঙ্গে সুখের সম্পর্ক খুব গভীর কিছু নয়। অবাক শোনালেও কথাটি সত্য। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস ও সেইন্সবারি’জ সুপার মার্কেটের গবেষকরা দেখেছেন, বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে ভালো থাকা সূচকে সার্বিক স্কোর বড়জোর শূন্য দশমিক ৫ পয়েন্ট বাড়ে। কিন্তু ঘুমের হেরফের হলে স্কোরের ওঠানামা হতে পারে অনেক বেশি। ঘুমের তারতম্যের কারণে কোথাও কোথাও গড়পড়তা ভালো থাকা ও সবচেয়ে ভালো থাকা মানুষের মধ্যকার স্কোরে ৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট পর্যন্ত ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।

স্বজনের ভালো থাকা না থাকার কারণেও ব্যক্তিমানুষের সুখ-অসুখের তারতম্য ঘটে। পরিবারের কোনো সদস্যের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে আলোচ্য সূচকে কারো কারো স্কোরে ১ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠানামা ঘটেছে।

সুখ-অসুখের কারণ অনুসন্ধানে এ গবেষণার জন্য ব্রিটেনের সব শ্রেণীগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক একটি প্যানেল সৃষ্টি করা হয়। ৮ হাজার ২৫০ সদস্যের এ প্যানেলের সবার কাছে গবেষকরা জীবনযাত্রা ও অনুভূতির বিভিন্ন বিষয়ে ৬০টি ভিন্ন প্রশ্ন রাখেন। এরই ভিত্তিতে শনাক্ত হয় সুখ-অসুখের বিভিন্ন নিয়ামক।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ডিরেক্টর অব কনসাল্টিং ইয়ান মুলেইর্ন বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল এ সময়ে ভালো থাকার গুরুত্ব মানুষের কাছে দিন দিন বাড়ছে। কী কী বিষয় ভালো থাকার বোধকে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত করে, তা উদ্ঘাটন করতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি।
প্রতি ছয় মাস পর গবেষকরা নির্বাচিত এ প্যানেলের মুখোমুখি হবেন, যাতে মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের বোধে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলোর গুরুত্বের তারতম্য জানা যায়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরঅ্যা/আরইউ