logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

সকালে হাঁটার অবিশ্বাস্য উপকারিতা!

লাইফস্টাইল ডেস্ক | আপডেট: ০৬ মে ২০১৮

গবেষকরা একটি মজার খবর দিয়েছেন। তারা বলছেন, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটাহাঁটিই করুন। প্রতিদিন সকালে মাত্র কিছু সময় হাঁটলেই আপনার মৃত্যুঝুঁকি কমে যাবে।

গবেষকরা মনে করছেন, রোজ সকালে ৪৫ মিনিট হাঁটলেই ডায়াবেটিসের আশঙ্কা অনেকটাই দূরে সরে যায়। এমনকি যারা ইতোমধ্যেই ডায়াবেটিসের কবলে পড়েছেন, তারাও রোজ সকালে মাত্র ৪৫ মিনিট হাঁটলে রক্তের সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক স্তরে নেমে আসতে পারে। যা আপনার মৃত্যুর ঝুঁকি কমাবে।

তারা বলছেন, সপ্তাহে মাত্র ১৫০ মিনিট মাঝারিভাবে কিংবা ৭৫ মিনিট জোড়ালোভাবে হাঁটলেই মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিষ্ক্রিয় অর্থাৎ কম চলাচল করেন তাদের তুলনায় যারা হাঁটেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কম। এ ছাড়া হাঁটার সঙ্গে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্তন এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

সম্প্রতি ১ লাখ ৪০ হাজার আমেরিকান নাগরিকের ওপর এমন একটি গবেষণা চালানো হয়।

তাতে জোরালোভাবে হাঁটা, মাঝারিভাবে হাঁটা এবং জোরালো শারীরিক কার্যক্রম ইত্যাদি বিষয়াদি বিবেচনার পর গবেষণায় দেখা যায়- কোনো শারীরিক কার্যক্রম ছাড়া প্রতি সপ্তাহে গড়ে একজন মানুষ ২ ঘণ্টার কম হাঁটলে তার মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ার প্রবণতা অনেক বেশি থাকে। এর মধ্যে যারা সপ্তাহে গড়ে ২.৫ থেকে ৫ ঘণ্টা হাঁটে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কম।

গবেষকদের মতে, ভরপেট খাওয়ার পরপরই ব্যায়াম করবেন না, সেটা সকাল বা বিকেল, যখনই হোক। আগে কিছু নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম নিন, তারপর ব্যায়াম করতে পারেন।

এ ছাড়া আর কিছু উপকারিতা রয়েছে-

সুস্থ হৃদপিণ্ড, সুন্দর জীবন

যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন তাদের হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এ ছাড়া শরীরের রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে।

বাড়বে সুস্থতা

যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, ডাক্তারের পরামর্শে তারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন। এতে অবশ্য তারা উপকার পান। মজার কথা এতে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

যদি ওজন কমাতে চান, তবে প্রতিদিন ৬০০ ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলতে হবে। যেটা একদিনের খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালরির চেয়ে বেশি। যার ওজন ৬০ কেজি তিনি যদি প্রতিদিন ঘণ্টায় ২ মাইল গতিতে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন, তবে ৭৫ ক্যালরি শক্তি ক্ষয় করতে পারেন। যদি ঘণ্টায় ৩ মাইল গতিতে হাঁটতে অভ্যস্ত হন তবে, ৯৯ ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলতে পারেন। ঘন্টায় ৪ মাইল গতিতে হাঁটলে আরও বেশি ক্যালরি ক্ষয় করতে পারবেন। এতে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫০। হাঁটলে দেহের পেশীগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সাধারণত মানুষের স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ৬৫ বা এর বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১৪ জনের মধ্যে ১ জনের স্মৃতিভ্রম হয়। আর ৮০ বা এর বেশি বয়সীদের ৬ জনের মধ্যে ১ জনের দেখা দেয় স্মৃতি হারানোর রোগ। নিয়মিত বিভিন্ন ব্যায়াম অনুশীলনে মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বাড়ে। এতে স্মৃতিহানি হওয়ার ঝুঁকি ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়।

জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি নেই

নিয়মিত হাঁটাচলা করলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি কমে যায়। সাধারণত বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের শরীরের বিভিন্ন হাড় ও সংযোগস্থলে ব্যথা করে। শরীরের জয়েন্টগুলোকে সুস্থ রাখতে হাঁটা নিঃসন্দেহে খুবই কার্যকর ব্যায়াম।

ভিটামিন ডি

দিনের আলোতে, বিশেষ করে সকালে হাঁটার অভ্যাস করলে শরীর ভিটামিন ডি-তে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। দৈনন্দিন খাবার থেকে খুব অল্প পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৪৩ জনের শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে। দেখা গেছে যাদের শরীরে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত রয়েছে তারা অন্যদের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ সময় রোগটির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে পারে।

প্রাণবন্ত শরীর ও মন

সকালের প্রকৃতি এমনিতেই থাকে স্নিগ্ধ। এ সময় হাঁটার মজাই আলাদা। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সময় মন স্বাভাবিকভাবেই ফুরফুরে থাকে।

সুখ প্রতিক্ষণ

যাদের নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস, তাদের সঙ্গীর অভাব হয় না। একজন আরেকজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন আনন্দের মুহূর্তগুলো। সামাজিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি মানসিকচাপ ও টেনশন কমে শুরু করে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি