logo

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

শাপলা বিক্রি করে চলে শত সংসার

| আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

শাপলা সংগ্রহ করছেন কৃষকরা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো মুন্সিগঞ্জের বেশ কিছু উপজেলায় শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে শত শত পরিবার। বর্ষা মৌসুমে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় শাপলা বিক্রি করে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের সংসারের খরচ মিটছে। বিনা পুঁজিতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করছেন একেকজন কৃষক।

বর্ষার পানিতে টইটুম্বর জেলার শ্রীনগর, সিরাজদিখানসহ কয়েকটি উপজেলার খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সেখান থেকে শাপলা তুলে তা বাজারে বিক্রি করছেন অত্র অঞ্চলের অর্ধশত কৃষক। প্রায় দুই মাস শাপলা বিক্রি করেই পরিবারগুলোর রোজগার হয় এবং বছরে বেশ কয়েক মাস সেই অর্থ দিয়ে তাদের সংসার চলে।

কৃষক ও দিনমজুররা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জমিতে জন্ম নেয়া শাপলা তুলে নৌকায় নিয়ে তা বিভিন্ন পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন।

সিরাজদিখান-নিমতলা সড়কের রশুনিয়া, ইমামগঞ্জ, চোরমর্দন, লতব্দীসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে ওই সকল শাপলা সারিবদ্ধভাবে স্তুপ করে রাখতে দেখা গেছে। বিকেলের দিকে পাইকাররা এসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রির জন্য তা কিনে নিয়ে যান।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে অনেক কৃষক ও দিনমজুর শাপলা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকেন। শাপলা বিক্রিতে কোনো পুঁজির দরকার হয় না। শুধু মাত্র বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত জমি থেকে শাপলা তুলে আনতে হয়। এরপর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে বিক্রি। শাপলা ফুল সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। বেশ কয়েক বছর ধরে সিরাজদিখানসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় এ পেশাটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন অনেকেই শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সিরাজদিখানের বাসিন্দা শাপলা সংগ্রহকারী দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে শাপলা তুলে তা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। শাপলায় আমার জীবন চলে। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া।

সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল মতিন বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরেই আমরা এ শাপলা তুলে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকি। শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাই, ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়াই। শাপলাই আমার জীবন চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

শাপলা সংগ্রহকারী আওলাদ হোসেন হাওলাদার বলেন, এখন প্রতিদিন প্রত্যেকে কমপক্ষে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ মোঠা (৬০ পিস শাপলায় এক মোঠা) সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে এসব শাপলা সংগ্রহ করে একত্রে করেন। পরে রাতে ঢাকার পাইকারী বাজারে বিক্রি করেন।

উপজেলার দানিয়াপাড়া গ্রামের পাইকার মোহন মিয়া বলেন, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মোঠা শাপলা ক্রয় করি। এক মোঠা শাপলা ১০ টাকা দরে ক্রয় করি। তারপর গাড়ি ভাড়া গড়ে তিন টাকা, লেবার এক টাকা, আড়তের খরচ দুই টাকাসহ মোট ১৭ থেকে ১৮ টাকা খরচ পড়ে। তা ঢাকার যাত্রাবাড়ী আড়তে ২৫ থেকে ২৭ টাকা মোঠা বিক্রি করি।

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাফীয়ার রহমান বলেন, শাপলা উপজেলার আনাচে-কানাচে সবজি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। শাপলার বৈশিষ্ট্য নিরাপদ সবজি, কীটনাশক ও রাসায়নিক সার মুক্ত। সিরাজদিখানসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিক হিসেবে শাপলা বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে শাপলা বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার মতো উপার্জন করছে কৃষকরা।

তিনি আরও বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ফলিত গবেষণা ইনস্টিটিউটকে শাপলা উৎপাদন ও চাষের বিষয়ে নজর দেয়া উচিত। যদি শাপলা আধুনিক পদ্ধতিতে আবাদ করা যায় তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা যাবে।