logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

সকালে আত্মহত্যার চেষ্টা, বিকেলে তরুণ-তরুণীর নতুন জীবন

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮

নাইলনের দড়ি তৈরি। গাছের ডালে বেঁধে শুধু ঝুলে পড়ার অপেক্ষা। জঙ্গলে অচেনা দুই যুবক-যুবতী, সঙ্গে নাইলেনর দড়ি। বিষয়টি দেখে সন্দেহ হয় গরু চড়াতে আসা রাখালদের। তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রামে গিয়ে ডেকে আনেন প্রতিবেশীদের। চলে আসেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা লখাই দাকে। দুজনকে বুঝিয়ে এনে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয়। সকালে যারা জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিল তাদের চার হাত এক হল।

বদলে যাওয়া গল্পের দুই নায়ক-নায়িকা হলেন মনোরঞ্জন আঢ্য ও পূর্ণিমা পাল। দুজনেই বীরভূমের লোকপুর থানার কমলপুরের বাসিন্দা। মনোরঞ্জন লোকপুর থানার সিভিক ভলানটিয়ার। পূর্ণিমা প্রথম বর্ষের ছাত্রী। একই গ্রামের এই যুগলের পরিণতি আটকে ছিল মনোরঞ্জনদের বাড়ির আপত্তিতে। কারণ পূর্ণিমার থেকে তারা উচ্চবর্ণের। তাই দুজনে ঠিক করেন এ জীবনের ভালবাসা, মৃত্যুতেই পূর্ণতা পাক। সেই পরিকল্পনা মতো রবিবার সকালে কমলপুর থেকে বাসে চেপে খয়রাশোলের হজরতপুর গ্রামে আসেন পূর্ণিমা। বাইকে করে মনোরঞ্জন এসে এরপর প্রেমিকাকে নিয়ে যান হিংলো নদীর ধারে নির্জন জঙ্গলে। সেখানেই তারা গাছে নাইলন দড়ি টাঙিয়ে আত্মহত্যার মৃত্যুর পরিকল্পনা করে। তাদের এই গতিবিধি নজরে আসে স্থানীয় রাখালদের। তারাই খবর দেন এলাকার তৃণমুল নেতা লখাই দাকে। লখাইবাবু এসে আত্মহত্যা আটকেই দলীয় দফতরে খবর দেয়। এলাকার তৃণমূল নেতা স্বপন সেন জানান, দুই যুবক যুবতী কিছুতেই মুখ খুলতে চাইছিলেন না। কমলপুর থেকে দুই পরিবারকে ডাকা হয়। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক। তাই তাদের বিয়েতেও কোনও আপত্তিই নেই বলে পুলিশের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়।

পাত্রীর বাবা মাধব পাল মেয়েকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে অনুষ্ঠান করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু পূর্ণিমা বেকে বসেন। তার কথায় বাড়ি ছেড়েছি নতুন জীবনের জন্য। হয় পরজন্মে যাব, নয় নতুন সংসার করে বাড়ি ফিরব। শেষে শাসক দলের উদ্যোগেই আয়োজন করা হয় বিয়ের।

স্থানীয় গ্রামবাসী তথা তৃণমূল সমর্থক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুধু জীবন বাঁচাই না। জীবন গড়ে দিই।’ দুই জীবনকে মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিয়ে নতুন জীবন গড়ে দেওয়াকে ঘিরে উৎসাহ দেখা দেয়। গ্রামের মেয়েরা উদ্যোগ নেয় পূর্ণিমাকে সাজাতে। তাকে লাল শাড়িতে চুয়া চন্দনে সাজিয়ে হজরতপুরের বিশ্বরূপ মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। মনোরঞ্জনকে সাজান তার বাড়ির লোকেরা। দুই পরিবারের লোকের উপস্থিতিতে বিগ্রহের সামনে সিদুর দান করা হয়। বাইরে সেই আনন্দে গ্রামবাসীরা খিচুড়ির বউভাত খায়। রাতেই মনোরঞ্জনের পরিবার নববধুকে বরণ করে।

ফেমাসনিউজ২৪/এমজি