logo

রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মার, চরম সিদ্ধান্ত

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮

স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছে মার খেয়ে ও অপমানিত হয়ে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন জামাই। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ দাস(১৮)। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার মঠেরদিঘিতে।

গত ৬ মার্চ সকালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অপমানিত হয়ে বাড়ি ফিরে এসে বিষ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয় বিশ্বজিৎ। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে গত সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। ঘটনায় স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের নামে জীবনতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।

মাত্র ছ’মাস আগে, ২৯ অক্টোবর, কার্যত জোর করে বিশ্বজিৎকে ধরে এনে নিজের মেয়ে ববিতা ঘোড়ই-এর সঙ্গে বিয়ে দেয় কনের বাবা, বলে অভিযোগ। বাপ-মা মরা বিশ্বজিতের সঙ্গে ববিতার প্রেমের সম্পর্ক থাকায়, পাত্র-পাত্রী নাবালক হলেও প্রাথমিক ভাবে কেউ বাধা দেয়নি। বিয়ের পর ববিতাকে নিয়ে মঠেরদীঘিতে নিজের বাড়িতে মাস দুয়েক থাকার পর, ববিতা ক্যানিংয়ে তার বাপেরবাড়িতে চলে আসে।

স্ত্রীকে আনতে গেলে বিশ্বজিৎকে বারবার অপমান করে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা শ্বশুরবাড়ির হাতে তুলে দেওয়ার জন্যও চাপ দিতে থাকে বলে অভিযোগ। কিন্তু বিশ্বজিৎ সেই কথায় কান না দেওয়ায়, প্রতিদিন তার উপর মানসিক চাপ বাড়াতে থাকে স্ত্রী ববিতা এবং তার মা বিশা ঘোড়ুই। তা সত্ত্বেও গত ৬ মার্চ স্ত্রীকে নিয়ে আসতে তালদিতে শ্বশুরবাড়ি যায় বিশ্বজিৎ। 

অভিযোগ, সেই সময় বিশ্বজিৎকে মারধরের পাশাপাশি তাকে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে অপমানিত করে ববিতা ও তার পরিবার। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে ওই যুবক। 

যুবকের মৃত্যুর পর এ বিষয়ে জীবনতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে তার পরিবারের সদস্যরা। অন্য দিকে, ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে ক্যানিং থানার পুলিশ।  

ফেমাসনিউজ২৪/এমজি