logo

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

আকর্ষণীয় রাজার জনপ্রিয়তা

বিবিধ ডেস্ক | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৮

শুধু সৌন্দর্য্য নয়, আচরণ এবং ব্যক্তিত্বও মানুষের চেহারায় ফুটিয়ে তোলে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে জায়গা করে নেন জনমনে। বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের অলিখিত খেতাবপ্রাপ্ত ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগয়াল ওয়াংচুক এর একজন।

২০০৬ সাল থেকে তিনি প্রজাদের দেখভাল'র দায়িত্বে আছেন। নিজে রাজা হয়েও ভুটানকে গণতন্ত্রের পথে আনতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন জিগমে খেসার। সংবিধান রচনার পুরো প্রক্রিয়া নিজে তত্ত্বাবধান করে সেটা জনগণের সাথে আলোচনাও করেন তিনি। ভুটানের তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় এই রাজা।

১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল দেশটিতে। জনগণ দেশের রাজাকে দারুণ ভালোবাসে। রাজা জিগমে খেসার ওয়াংচুক রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আনেন। এ পরিবর্তন তার বাবার সময় থেকে শুরু হয়। যখন ১৯৫৮ সালে তিনি তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা ত্যাগ করেন।

বর্তমানে সরকারের সব অংশে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০৮ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুটো দল অংশ নেয়।

বর্তমান রাজা আমেরিকা ও ব্রিটেনে লেখাপড়া করেছেন। ২০১১ সালে তিনি বিয়ে করেন। ভুটানের বর্তমান রানি জেটসান পেমা। এই দুজন মানুষ গোটা ভুটানে সবার ভালোবাসার পাত্র।

ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজা জিগমে খেসার ১৭ বছর বয়সে প্রথম দেখেন জেটসুনকে। তখন রানির বয়স ছিল সাত বছর। জেটসুনের শরীরেও বইছে রাজরক্ত। বৈমানিক বাবার এই মেয়ের দাদা ছিলেন ভুটানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ তাশিগংয়ের লর্ড। আর নানা ছিলেন ভুটানের দ্বিতীয় রাজার শ্যালক।

সহধর্মিণী সম্পর্কে রাজা জিগমে খেসার একবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমি বিয়ে করতে একটু সময় নিয়েছি। তবে সঠিক মানুষকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে সময় কোনো ব্যাপার নয়। আমি নিশ্চিত, আমি সঠিক মানুষকেই বিয়ে করেছি। তিনি একজন অসাধারণ বুদ্ধিমতী মানুষ। তার আর আমার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিল হলো, ভালোবাসা আর শিল্পকলার প্রতি প্রেম।

রাজা-রানির প্রথম সন্তানের জন্ম জনগণ পালন করে ১ লাখ ৮ হাজার গাছ লাগিয়ে। গাছ তাদের কাছে দীর্ঘ জীবন, সৌন্দর্য এবং সহমর্মিতার প্রতীক। ২০১৫ সালে মাত্র ১ ঘণ্টায় ৫০ হাজার গাছের চারা লাগিয়ে ভুটান গিনেস রেকর্ড বুকে স্থান করে নেয়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম