logo

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

সেই মেয়েদের মনের খবর জানতে এবার বিশেষ কমিটি

| আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৯

শরীর-স্বাস্থ্যের খোঁজ তো নেয়াই হয়। এবার কলকাতার বিভিন্ন যৌনপল্লীর কর্মীদের মনের তথ্য-তালাশ করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ জন্য সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কলকাতার বিভিন্ন যৌনপল্লীতে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি) এবং যক্ষ্মার মতো অসুখ থেকে যাতে রক্ষা পান যৌনকর্মীরা, তার জন্য সারা বছরই নানা ধরনের ক্যাম্প এবং স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনা করে থাকে যৌনকর্মীদেরই সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি।

শরীর সুস্থ থাকলেও মন কি আদৌ ভালো আছে? যৌনকর্মীদের মধ্যে কেউ কি মানসিক অবসাদে ভুগছেন? এবার সেই খবর রাখতেও উদ্যোগী হয়েছে এ সংগঠন।

হাসি-খুশি মেয়েটা হঠাৎই কেমন যেন মনমরা হয়ে গেছে। কারও সঙ্গেই তেমনভাবে কথা বলে না। শারীরিকভাবে অসুস্থ না থাকলেও মানসিক। কলকাতার যৌনকর্মীরা এমন কোনও মানসিক অসুস্থতা বা অবসাদের শিকার হচ্ছেন কিনা তা জানতে বিশেষ কমিটি তৈরি হয়েছে।

দুর্বারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনাগাছির প্রায় সাত হাজার যৌনকর্মী এবং বউবাজার এলাকার অন্তত ২৩০০ যৌনকর্মীর প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে তাদের মানসিক অবস্থার তথ্যনিষ্ঠ নথি তৈরি করা হবে। সেই কাজ শুরুও হয়েছে।

দুর্বারের মেন্টর ভারতী দে তাদের নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে বলছেন, খোলা মনে আলোচনা করলে মন অনেকটাই হাল্কা হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা মন খারাপের কারণটা কারও সঙ্গে ভাগ করতে চাই না। এটা যেমন আমাদের বাড়িতে হয়, তেমনি এখানকার মেয়েদেরও এ সমস্যায় পড়তে হয়। এ সমস্যা এড়াতেই এ উদ্যোগ।

সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরিবারের খুব কাছের কোনও সদস্যের থেকে খারাপ ব্যবহার বা সঙ্গীর থেকে শারীরিক নিগ্রহ অনেক সময়ই যৌনকর্মীদের মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়। সরাসরি প্রশ্ন করলে প্রায় সবাই এ প্রসঙ্গগুলো এড়িয়ে যাবেন। তাই মনের গোপনে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার কথা বের করে আনতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কমিটির সদস্যদের।

ভারতী বলছেন, যে সাতজনকে নিয়ে কমিটি তৈরি করা হয়েছে, তারা সবাই যৌনকর্মী। এর ফলে তাদের কাছে বাকি যৌনকর্মীদের মন খোলাসা করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমরা এ সাতজনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কোন লক্ষণ দেখে মানসিক অবসাদ বুঝতে হবে, তেমন কিছু বুঝতে পারলে কীভাবে যন্ত্রণার জায়গায় পৌঁছতে হবে--- তার প্রাথমিক পাঠ দেয়া হয়েছে তাদের।

সংগঠন জানাচ্ছে, যৌনকর্মীদের বেশিরভাগকেই হীনমন্যতা, সামাজিকভাবে অপদস্থ হওয়ার ভয়, অর্থনৈতিক সমস্যা, অনিশ্চয়তা-আশঙ্কা কুড়ে কুড়ে খায়। একমাত্র বন্ধুর মতো গল্প করেই তাদের এ সমস্যাগুলোর গভীরে যাওয়া সম্ভব। এবার সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই নিয়েছে দুর্বার।

তবে সোনাগাছি ও বউবাজার মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার যৌনকর্মীর প্রত্যেকের সঙ্গে একান্তে কথা বলে তথ্যনিষ্ঠ নথি তৈরি করার কাজটা যে নেহাত সহজ নয় তা স্বীকার করছেন সংস্থার মেন্টর। এর জন্য তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে যত্নসহকারে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম