logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

দেশে ফিরতে দেরি কেন খালেদার?

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। এই গুঞ্জনের রসদ জোগাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলে অভিযোগ রয়েছে বিএনপির। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার চোখের চিকিৎসা সম্পন্ন হলেও হাঁটুর চিকিৎসা এখনো চলছে। এ মাসেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরবর্তী সাক্ষাতের তারিখ আছে। চিকিৎসা শেষেই দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া।

কিন্তু কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তিনি তার নির্দিষ্ট করে বলছেন না বিএনপির কোনো নেতাই। এর আগে বলা হয়েছিল, চিকিৎসা শেষে ঈদ উল-আযহা সম্পন্ন করে গত ৪ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার সম্ভাবনা ছিল তার। এরপরে তা ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। আর এখন তা এ মাসের শেষে অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে করা হচ্ছে। তবে এগুলোর সবই সম্ভাব্য তারিখ বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

চোখ, পায়ের চিকিৎসা ও পরিবারের সাথে সময় কাটাতে ১৫ জুলাই লন্ডনে যান বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সময় কাটাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়া লন্ডন যাবার সময় নেতাকর্মীরা আসা করেছিল দুই মাসের পারিবারিক এবং চিকিৎসা সফরে যাচ্ছেন তিনি। তবে দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন নির্দিষ্ট হয়নি খালেদা জিয়ার দেশে আসার সময়।

এদিকে খালেদা জিয়ার দেরিতে দেশে ফেরা নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ বিষয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ঈদের পরে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ফেরেননি। বার বার ডেট পেছাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই যখন তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তখন খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে বার বার তারিখ পরিবর্তন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, খালেদা জিয়ার এ সফর নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ আমরা তো আর বিএনপির রাজনীতি করি না। আমরা জনগণের রাজনীতি করি, জনগণকে নিয়েই আমাদের চিন্তা।

খালেদা জিয়া মামলার ভয়ে বিদেশে পালিয়েছেন, তিনি আর দেশে ফিরবেন কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার অপেক্ষায় আটকে আছে দলটির বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ের সহায়ক সরকারের রুপরেখা, সংসদীয় আসন, বিএনপিকে ঢেলে সাজানো, অঙ্গসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা এবং আন্দোলন-সংগ্রাম বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার ওপর।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামন দুদু ফেমাসনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখন পর্যন্ত সেরকম কোনো সিদ্ধান্তের কথা আমাদের জানানো হয়নি। তবে আশা করা যায়- এ মাসের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন এবং তারপরই সহায়ক সরকারের রুপরেখা ঘোষণা করতে পারেন। মোটামুটিভাবে সহায়ক সরকারের রুপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আসলেই তা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন যাবার পর বর্তমান সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা কতই না প্রলাপ বকছেন। প্রথমে আওয়ামী লীগের নেতারা বললেন, তিনি (খালেদা জিয়া) মামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, এখন তারা বলছেন ষড়যন্ত্র করতেই লন্ডন গেছেন। এরপরে হয়তো তারা আরেক নতুন তথ্য দেবেন।খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে বিশাল শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া দেশে ফিরলেই হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে নীরবে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। খালেদার গুলশানের বাসা থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তার দুই দ্বারে সারিবদ্ধ হয়ে ফুল দিয়ে খালেদা জিয়াকে বরণ করে নেয়া হবে। খালেদার সংবর্ধনার দিন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ঢাকাকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করতে চায়। পাশাপাশি বিমানবন্দরেও দলীয় নেতাকর্মীর ব্যাপক সমাগম ঘটাতে চায়।

তবে সব আলোচনা-সমালোচনার অবসান হবে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার পরে। সেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বিএনপির সিনিয়র নেতা থেকে সাধারণ কর্মীদেরও।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম