logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান করল না আ.লীগ!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিএনপি একেক সময় একেক দাবি উত্থাপন করলেও তা হালে পানি পায়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির দাবিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছে। তবে রোহিঙ্গাদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিকে প্রত্যাখ্যান না করলেও সার্বিক বিবেচনায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য এবং অব্যবস্থাপনা রোধে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর, ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিদেশ থেকে আসা এবং দেশীয় ত্রাণ সামগ্রী রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করা হয় বিএনপির পক্ষ থেকে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এ আহবান জানান।

সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দেখা দেয়। একইসঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব অব্যবস্থাপনা আরো বৃদ্ধি পায়। যেহেতু রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সারাবিশ্ব থেকে ত্রাণ সামগ্র পাঠানো হচ্ছে। সেগুলো সুষ্ঠু এবং সঠিকভাবে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য সহায়তা চেয়েছে সরকার।

এ সম্পর্কে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর ২৫ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় চার লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে। এটা বিপুল সংখ্যা। এর জন্য কিছুটা ব্যবস্থাপনা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা দেয়া হচ্ছে। সামান্য যে অব্যবস্থাপনা আছে তা দূর করা হবে।

তিনি বলেন, বরাবরই সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়। সেই বিবেচনায় এবারও রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বণ্টনের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আমরা নিজেরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ দিচ্ছি। কিছু নিয়ম-কানুন মেনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখন ত্রাণ আসছে। এসব ত্রাণ গ্রহণ, বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার কাজে সেনাবাহিনী সহায়তা করবে। তারা অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা করবেন বলেও জানান ত্রাণমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনকাজে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগিরই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করবে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, সেনাবাহিনী মোতায়েন না করলে ত্রাণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকার কোনো অব্যবস্থাপনা সহ্য করতে পারে না। সে নিজের দলেরই হোক না কেন। সে জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গা সেবায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবিরা।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম