logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

অনুমতির জালে আটকা বিএনপি!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৭

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ক্ষমতায় নেই দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। ক্ষমতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত এই দলটি নিজেদের সভা, সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচি পালনে অনেকটাই সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতির জালে আটকা পড়েছে। দলীয় কোনো ইস্যুতে বড় আয়োজন করতে চাইলেই নির্ধারিত প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয় বলে অভিযোগ বিএনপির।

তবে দলীয় এবং জাতীয় বড় ইস্যুতে সভা, সমাবেশ গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, এর জন্য প্রশাসনের অনুমিতর কোনো প্রয়োজন পড়ে না, কিন্তু দেশে অগণতান্ত্রিক সরকার থাকায় অনুমতির অপেক্ষায় থেকেও অনুমতি পাওয়া যায় না।

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশ থেকে বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলোকে নিঃশেষ করার জন্য অগণতান্ত্রিকভাবে জুলুম করছে বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় বড় ইস্যুতে সভা, সমাবেশ করতে চাইলে সরকারের প্রশাসনের অনুমতি চাইতে হয়। অনুমতির জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব নিয়ম-কানুন মেনে চলা হয়। তারপরও কোনো না কোনো অজুহাত এনে অনুমতি দেয়া হয় না। বিগত কয়েক বছরে বিএনপির বেশিরভাগ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। কখনো নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে, কখনো সংঘর্ষ এড়ানো বা কোনো কারণ ছাড়াই অনুমতি চাইলেও বিএনপির আবেদনে সাড়া দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মানববন্ধন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর সাদেক হোসেন খোকার বাড়ি বাতিলের প্রতিবাদে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে, একই বছরের ৭ নভেম্বর উপলক্ষে সমাবেশ করতে ৭, ৮ ও ১৩ নভেম্বর অনুমতি চাইলেও প্রশাসন সাড়া দেয়নি। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ১৪ মে, একই বছরের ২২ মে গুম-খুনের প্রতিবাদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট-এ সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে সমাবেশ করতে ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী বা নয়া পল্টন চাইলেও প্রশাসন চুপ থাকে। এবছর মে মাসে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশি অভিযানের প্রতিবাদে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ কর্মসূচির অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

সম্প্রতি ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস উপলক্ষে পরদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চায় বিএনপি। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন চলায় ৮ তারিখ অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানায় পুলিশ। এরপর সমাবেশের তারিখ পরিবর্তন করে ১২ নভেম্বর করে দলটি।

৮ নভেম্বর বুধবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ১২ নভেম্বরের জনসমাবেশ আমাদের কাছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এ সমাবেশ করতে চাই। জনসমাবেশ সফল করতে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই। সবসময় তারা (আওয়ামী লীগ) বলে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেন না। তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। আশা করি তারা শান্তিপূর্ণ এ সমাবেশের অনুমতি দেবে।

তবে এদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন শেষে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের বলেন, ১২ নভেম্বর সমাবেশ করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা হলেও প্রকৃত অর্থে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের স্বাদ পাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় এবং জাতীয় ইস্যুতে সভা-সমাবেশ করবে এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এখন বিএনপি কোনো সমাবেশ করতে চাইলেই সরকারের প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেয়ার সব নিয়ম মানার পরেও কোনো ইস্যুকে সামনে এনে অনুমতি বাতিল করে দেয়। একটি প্রতিষ্ঠিত এবং বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সমাবেশের অনুমতি না দেয়া গণতন্ত্র বিরোধী বলেও জানান তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক হলেও প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ আমরা পাচ্ছি না। সরকারের প্রশাসন বার বার বিএনপির সভা সমাবেশ করার অনুমতিকে বাতিল করে দিয়েছে। ১২ নভেম্বর আমরা সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছি দেখা যাক এবার কী করে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দেশে বর্তমানে যে গণতন্ত্র চলছে সেটি একটি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পার্থক্য অনেক। এখানে আর্তনাতের গণতন্ত্র, গুলি নির্ভর গণতন্ত্র। এর মধ্যেই আমরা বসবাস করছি। একটি সু-শৃঙ্খল, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে। তার মতো একটি রাজনৈতিক দলকেও বার বার তার কাজে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক এবং সমাবেশকে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। যদিও সংবিধানে লেখা আছে এর জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। প্রকৃত অর্থে দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। এখানে আইনের শাসনের নামে একটা বুলি আছে। সেজন্য এই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ