logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

‘কষ্টে দু’চোখ বেয়ে জল ঝরেছে’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সহ-সম্পাদক তিনি। কুমিল্লার মেয়ে ডালিয়া রহমান। পড়াশুনা করছেন ইস্টার্ন ইউনির্ভাসিটিতে। এলএলবি এবং এলএলএম সম্পূর্ণ করে ল পরীক্ষা দিয়েছেন। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। ইচ্ছা ব্যারিস্টার হবেন। সে লক্ষে লন্ডনে অ্যাডমিশনও নিয়েছেন। বৃটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন।

ছাত্রদল করার সুবাদে নিয়মিত খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকেন এই সাহসী নেত্রী। শুরুটা ২০১৫ সালের পর। সেসময় ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় খালেদা জিয়া অংশ নিলে রাজধানীর বাংলামোটর অংশে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে তার গাড়ি বহরে হামলা চালঅনো হয়। তখন থেকেই খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হলেই তার গাড়ি বহরের সামনে স্কুটি চালিয়ে অংশ নেন ডালিয়া। 

ডালিয়া বলেন, হামলার পর থেকে ম্যাডাম যখনই বাসা থেকে বের হন, তার আগেই আমি এবং ছাত্রদলের আরো কর্মীরা গুলশানে উপস্থিত হই। সেখান থেকে ম্যাডাম যেখানেই মুভ করেন সেখানেই আমি সঙ্গে থাকি। স্মৃতিসৌধ, জিয়াউর রহমানের মাজার, বিভিন্ন প্রোগ্রামসহ নিয়মিত আদালতের হাজিরায় ম্যাডামের সঙ্গে থাকি।

এর কারণ হিসেবে ডালিয়া জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সব সময়ই সিএসএফ থাকে। তা সত্ত্বেও উনার ওপর অনেক বেশি হামলা হয়েছে। এ সুবাধে আমাদের কাছে মনে হয়েছে আমরা যতটুকু পারি উনার সঙ্গে থাকি। এতে একটু কষ্ট হয়। যেমন আমার বাসা ধানমন্ডি। আমি বাসা থেকে গুলশানে যাই। আমার মতো অনেকেই কষ্ট করে আসেন। ম্যাডামকে বাসা থেকে নিয়ে আবার বাসায় রেখে আসি। কষ্ট হলেও এতেই আমাদের মনে শান্তি। রাস্তায় হামলা হোক আর যাই হোক আমরা তো ম্যাডামের সঙ্গে আছি।

নেতাকর্মীদের মাঝে স্কুটি চালানো একমাত্র নারীনেত্রী তিনি। বিষয়টি তার কেমন লাগে প্রশ্নে ডালিয়া জানান, এতে আমার অনেক ভালো লাগে। আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক বড় আপুরাই বাইক কিনেছেন। আমার কাছে এটিকে সাহসীকতার একটা বিষয় মনে হয়। আমার কাছে এটি অনেক বেশি ভালো লাগে।

খালেদা জিয়ার প্রতি তার ভালোবাসার বিষয়ে জানান, ম্যাডামের প্রতি আমার ভালোবাসা অফুরন্ত। এটার প্রমাণ দিতে হয় না। প্রতিনিয়ত রোদে পুড়ি, বৃষ্টিতে ভিজি, সারাদিন বাইরে ঘুরি, কালো হচ্ছি না ফর্সা হচ্ছি দেখার সময় নেই। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর আসতেছে সেটাও খেয়াল করি না। একটা মেয়ের জন্য বাইরে থাকাটা ভালো দেখায় না। তার পরেও আমি থাকি। একইসঙ্গে যখন অনেকগুলো বাইক চলে তখন কিন্তু অনেক রিস্ক। অবশ্য এসবকে আমি তেমন গুরুত্ব দেই না।

বৃহস্পতিবার রায়ের দিন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে ছিলেন ডালিয়া। কিন্তু ফিরে আসতে হয় একা একাই। সে সময়ের অনুভূতি জানান ডালিয়া, ওইদিন আমরা সবাই কান্নাকাটি করেছি। যারা রাজনৈতিক কর্মী, ম্যাডামকে যারা ভালোবাসেন সবার মধ্যেই চিল বিষণ্নতা, মন খারাপ ভাব। কষ্টে সবার চোখ বেয়ে জল ঝরেছে। আমি শুধু একা না। সবার চোখেই জল দেখেছি।

খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। ছাত্রদলের এবং নিজের অনুভূতি জানান ডালিয়া, অনেক খারাপ। ম্যাডামের সাজা হওয়ার পরে উনাকে জেল খানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে এসে পল্টনে আমরা মিছিল করলে আমাদের সভাপতি রাজিব আহসানকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেও সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ম্যাডামও নেই অন্যরাও নেই। তারপরও দল থেকে এখন যে নির্দেশনা দেয়া হবে একজন ছাত্রদলকর্মী হিসেবে সেভাবেই কাজ করব। আমাদের দলে কখনই ছেলে-মেয়ে ভেদাভেদ করে দেখা হয়নি। আমি মেয়ে বলে আমাকে কখনোই ছোট করে দেখেননি কেউ। 

খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পরও বিএনপি বা ছাত্রদলের জোরালো কোনো প্রতিবাদ নেই। এ বিষয়ে ডালিয়া বলেন, প্রতিবাদ কোথায় করবো? বৃহস্পতিবার আমরা মিছিল করতে বের হব, আমাদের সামনে ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে মহরা দিচ্ছেন। আমরা মিছিল করতে গেলে সেখান থেকে গ্রেফতার করছে। আর কীভাবে প্রতিবাদ করব। ওরা ঘুরছে, পুলিশ বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তারপরও আমরা বের হয়েছি। মিছিলের একপাশে ছাত্রলীগ আরেকপাশে পুলিশ; তারপরও আমরা পিছু হঁটিনি। 

গাড়ি বহরের সামনে স্কুটি নিয়ে যেতে পুলিশের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না প্রশ্নে ডালিয়া জানান, না কখনো এমন পরিস্থিতির মধ্যে পরিনি। আমি যদি থাকতে চাই; আমাকে ঠেকাবে কে? পুলিশ তো থাকবেই আমরা আমাদের কাজ করব। ছাত্রদল নিয়ে ভাবনা কী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তরুণ প্রজন্ম। আমরাই একসময় নেতৃত্ব দেব। বড়রা তো থাকবেই। আজকে আমি তরুণ, এজন্য রক্তও অনেক বেশি গরম।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিষয়ে ডালিয়া বলেন, খালেদা জিয়া একজন আদর্শবান নেত্রী। আমাদের পছন্দের মা। মায়ের সঙ্গে সন্তানের যেমন সম্পর্ক; তার রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদের সঙ্গেও তার এমনই সম্পর্ক। আমরা আমাদের কাজ করতেছি। আমরা উনাকে অনেক ভালোবাসি। উনিও আমাদেরকে ভালোবাসা দেন। আমরা যখন পরিশ্রম করে ক্লান্ত হই তখন উনি আমাদের উৎসাহ দেন। বলেন, তোমরা ভালো করছ, মন খারাপ কর না। এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার মা যেভাবে বলেন তিনিও সেভাবেই বলেন।

রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে ডালিয়ার ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় তেমন কোনো সমস্যা হয় না। পড়াশুনা, রাজনীতি ও খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তিনি। 

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ