logo

সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন, ১৪২৪

header-ad

‘আমরা দেশনেত্রী বানিয়েছি, আপনারা নেলসন ম্যান্ডেলা বানালেন’

বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন ও রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সরকার দেউলিয়া হয়ে গেছে। যে কারণে তারা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে ফখরুল এসব কথা বলেন।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। তাকে পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। এজন্য তাদের বিচার হবে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে সরকার মনে করছে বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, দমিয়ে রাখা যাবে। সেটা হবে না। দেশের মানুষ অবশ্যই কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।

তারেক রহমান এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, তার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাদের এই সংগ্রাম, এই লড়াই গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লড়াই। খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াই। বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার লড়াই।

অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিচারের নামে প্রহসন করে সরকারের ইচ্ছা পূরণ করা হয়েছে। আমরা সুবিচার পাইনি। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আইনিভাবে মোকাবেলা করছি। তারেক রহমানের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। গ্রেফতার করছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, অবস্থান কর্মসূচির জায়গা পরিবর্তনে আপনাদের কষ্ট হয়েছে। এজন্য আমরা দায়ী নই। খালেদা জিয়া বন্দি মানে গণতন্ত্র বন্দি। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো।

সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী বানিয়েছিলাম। আপনারা তাকে নেলসন মেন্ডেলা বানিয়ে দিয়েছেন। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অল্প সময়ে হাজার হাজার জনতার উপস্থিতি প্রমাণ করে খালেদা জিয়া দ্রুত ফিরে আসবেন। মিথ্যা বানোয়াট মামলায়  সরকার তাকে জেলে পাঠিয়েছে। নির্জন কারাগারে পাঠিয়ে প্রমাণ করলেন তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন না।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সরকার খালেদাকে মিথ্যা বানোয়াটভাবে সাজা দিয়েছে, তারপর কারাগারে অন্যায়ভাবে প্রথম শ্রেণির ডিভিশন থেকে বঞ্চিত করেছে। কারাগারে যাওয়ায় খালেদা জিয়া আরও শক্তিশালী হয়েছেন। খালেদা জিয়া জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেতা হয়েছেন। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জনসমুদ্র দেখে ভয় পেয়ে সরকার আজ আমাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি করতে দেয়নি।

এ সময় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম ইরান প্রমুখ।

জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির শাহাদত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈশা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও পিজিপির আব্দুল মতিন সাউদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের এ দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ছেল তারেক রহমানকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ওই রায় ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে দলটি।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই