logo

শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

৫ ক্যাটাগরিতে ছাঁটাই করছে উত্তর আ.লীগ!

মো.রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০২ মার্চ ২০১৮

বাতিলকৃত থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্বচ্ছ করতেই অবশেষে পাঁচ ক্যাটাগরিতে ছাঁটাই শুরু করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। অভিযুক্ত এ কমিটির বিতর্কিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে এরই মধ্যে ছাঁটাই কার্যক্রমও শুরু করেছে দলটি।

তবে ‘সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, স্বাধীনতাবিরোধী, বিএনপি এবং জামায়াত’ এই পাঁচ শ্রেণির ব্যক্তিরা বাতিলকৃত ওই কমিটির নামের তালিকায় আর থাকছে না বলে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।

কমিটির তিনজন উচ্চপর্যায় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই পাঁচ ক্যাটাগরির অভিযোগ যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাওয়া যায়, সে বাদ পড়বে। আর তালিকা থেকে বাদ পড়া দলের পরীক্ষিত ব্যক্তিদের স্থান দেয়া (যোজন-বিয়োজনের তালিকায়) হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে কমিটি বিতর্কমুক্ত করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মিসভা শেষে তাদের ঢেকে এ নির্দেশ প্রদান করেন। ওই সময় উপস্থিত কয়েকজন নেতার কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গেল বছর পূর্ণাঙ্গ ওই কমিটি ঘোষণার আগেই দুই দফায় বাতিলের মুখে পড়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ২৬টি থানা, ৪৬টি ওয়ার্ড ও ৯টি ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন সংগঠনের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

এর আগেও ৫ জুলাই একই কমিটির অনুমোদন দেন তারা। ওই সময় কমিটিগুলোর বিভিন্ন পদের নেতাদের নামে বিস্তর অভিযোগ ওঠায় কমিটি অনুমোদনের পরদিনই সবগুলো কমিটি স্থগিত করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এরপর তিনি ওই কমিটির অভিযোগগুলো তদন্তের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন আবারো তড়িঘড়ি করে গত বছর ২৭ ডিসেম্বর কমিটিগুলোর অনুমোদন দেন মহানগরের ওই দুই শীর্ষ নেতা।

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নগরের ২৭টি সাংগঠনিক থানার মধ্যে থেকে ওই বিষয়ে ৪টি থানার নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন উত্তর আওয়ামী লীগের কাছে। বাতিলকৃত ওই কমিটির তালিকায় বিতর্কিত ব্যক্তি রয়েছেন- কোনো থানা থেকে ১টি আবার কোনো থানায় ২টি।

তবে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ না পেলেও সম্পাদকমণ্ডলীতে বড় ধরনের একটা অভিযোগ পেয়েছেন বলে উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান জানান। তিনি জানান, পাঁচ ক্যাটাগরির অভিযোগের মধ্যে থেকে এক ক্যাটাগরির অভিযোগ পাওয়া গেলেই তাকে কমিটি থেকে বাদ দেয়া হবে। সেখানে দলের বাদ পড়া পরীক্ষিত নেতাদের নেয়া হবে।

উত্তর আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। কমিটিতে যাদের রাখার কথা তাদের না রেখে জামায়াত-বিএনপি এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পদ দেয়া হয়েছে, যা দলের জন্য মঙ্গল হবে না। এদেরকে বাদ না দিলে দলে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা এবং কর্মীর সংকট দেখা দেবে। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে এদের পাওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান। গত বছরের জুলাই মাসে উত্তর আওয়ামী লীগের কমিটির বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রী ফারুক খানকে প্রধান করে আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে অভিযোগ তদন্ত করে কমিটি গঠনে চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেন।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম