logo

রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

জুনেই চূড়ান্ত আন্দোলন, সময় মাত্র ৩ মাস!

মো রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৮

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেও জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তিন মাস আগে থেকে হার্ড লাইনে যাবে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি মাসের প্রথমেই জাতীয় নির্বাচন হবে। সে লক্ষে নির্বাচনের তিন মাস আগে অর্থাৎ অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করে তফসিল ঘোষণার আগেই মাঠে থাকবে বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তির পরেই আন্দোলন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে বিএনপি। এবছরের মাঝামাঝি সময়ে দাবি আদায়ে রাজপথে থাকবে দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ক্ষমতার স্বাদ থেকে বাইরে থাকা বিএনপি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিগুলো সময়ক্ষেপণ করা এবং আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জুনের আগের তিন মাস এভাবেই কাজে লাগাতে চান দলটির নীতিনির্ধারকরা। এই সময়ে সমমনা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যে আসারও চেষ্টা করবে বিএনপি।

নির্বাচনের এতো আগে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে শক্তি ক্ষয় করতে চায় না দলটি। তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ। নির্বাচনের আগমুহূর্তে দাবি আদায়ে গণতান্ত্রিক এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজপথে থাকবে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে তারা। দলের কারারুদ্ধ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে এ কৌশল গ্রহণ করেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

দলটির সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষায় সব সময় আন্দোলন করেছে। এখনো আন্দোলন করছে। তবে বর্তমানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেও নির্বাচনের আগে দিনে দিনে আন্দোলনের গতি বাড়ানো হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে দাবি আদায়ের আগ মুহূর্ত পরযন্ত রাজপথে থাকবে বিএনপি। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে দলটির পক্ষ থেকে। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না যা দলের এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর। আইন-শৃঙ্খালা বিরোধী কোনো কর্মসূচি নেবে না বিএনপি।

সিনিয়র নেতারা বলেছেন, এখনই আন্দোলন বা হার্ড লাইনে গেলে মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে পরবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়বে। নির্বাচনের আগে বা হার্ড লাইনে যাবার আগে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি নেতারা। জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, আইনজীবী, চিকিৎসক-প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতাদের টিম জেলা সফর করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে দিকনির্দেশনা দেবেন।

বর্তমানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলমান যে কর্মসূচি, সেগুলো অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির আগ পর্যন্ত এভাবেই চলবে। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলন জমিয়ে তুলতে আরও সময় নেবে দলটি। আগামী এপ্রিল নাগাদ নির্বাচন কমিশন থেকে নতুন দলগুলোর নিবন্ধন প্রাপ্তিসাপেক্ষে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়াও বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করে বিএনপি। সহিংস আন্দোলন বা কর্মসূচিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না। বর্তমানে চলমান শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশেই করা হচ্ছে। 'গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার' করতে সময়মতো দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়েই কঠোর আন্দোলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আমি আশা করছি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে তার বিরুদ্ধে থাকা মিথ্যা মামলা পরিহার করে অবিলম্বে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিএনপি হঠাৎ করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যা দলের এবং দেশের জন্য মঙ্গল হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিই পালন করা হবে।

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জে (অব.) মাহাবুবুর রহমান ফেমাসনিউজ২৪.কম-কে বলেন, বিএনপি অলরেডি কর্মসূচির মধ্যেই আছে। প্রতিনিয়ত কর্মসূচি দিচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাস করি। আমরা তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা করবো না যাতে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় বা সরকার একটা ওজুহাত তৈরি করে। বিএনপি শান্তি-শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে। আমরা সুষ্ঠুভাবে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। দেশে কোনো সমস্যা হোক, একটা গোন্ডগোল হোক এটা আমরা কখনো চাইবো না।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি ফেমাসনিউজ২৪.কম-কে বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম তো কারো ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না। এগুলো ধাপে ধাপে বাড়ে আবার কমে। তারপর একটা পরযায়ে চূড়ান্ত অবস্থায় যায়। এখন আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছে। ম্যাডামের মুক্তির পরে আমরাও ধাপে ধাপে আন্দোলনকে উচ্চতর পরযায়ে নিয়ে যাব। আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পক্ষে। এখন সরকার যদি আমাদের জায়গা না দেয়, সরকার যদি আমাদেরকে সাধারণ কর্মসূচিও করতে না দেয় তখনতো আমাদেরকে আরো উচ্চ পরযায়ের আন্দোলনে যেতে হবে। দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেলে আমরা কি করবো? ম্যাডাম আসলে এগুলো নিয়ে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। একই সঙ্গে আমরা আশা রাখি এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামকে একটা নতুন মাত্রা দিতে পারবো।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/এসআর/এসএম