logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

‘এ লজ্জা আমার বোনের নয়, গোটা ছাত্রলীগের’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত আরা এশার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো এবং ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হলের ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিতে গেলে এশার নেতৃত্বে ছাত্রলীগকর্মীরা তাদের বাধা দেন। পরে আন্দোলন থেকে ফিরে এলে তাদের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করেন। একপর্যায়ে এশা নিজ হাতে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোরশেদা বেগমের পায়ের রগ কেটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। হলের সিঁড়ি ও মেঝেতে রক্তের ফোঁটা দেখা গেছে- এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগ এবং রগ কাটার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাজানো বলে ছাত্রলীগের একটি সূত্রে জানা গেছে।

সেই রাতে রগ কাটার ঘটনা ছড়িয়ে যাওয়ার পর এশাকে সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঠিক তদন্ত ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেন। এর আগে তিনি এশাকে হল থেকে বহিষ্কারের আদেশও দেন। সেই রাতেই এশাকে সবার সামনে জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়। সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। যা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

তবে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভুয়া। সংগঠনের এই নেত্রীকে এমনভাবে ষড়যন্ত্রে ফেলে সম্মানহানি করার ক্ষোভ জানান তারা।

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি চৈতালী হালদার চৈতী তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন, ‘এশা আমারই হলের ছোটবোন। ওকে যতটা চিনি কারো রগ কাটার মেয়ে ও নয়। আর ছাত্রলীগ রগ কাটার রাজনীতি করেও না। একটা গুজবকে ভিত্তি করে আমরা ওকে একা করে দিলাম কোনো তদন্ত ছাড়াই। যদি ও অপরাধ করে ওর শাস্তি হবে। কিন্তু কোনো তদন্ত ছাড়াই আমরা তাকে বহিষ্কার করলাম। আর বিশ্ববিদ্যালয় ও মধ্যরাতে কীভাবে বহিষ্কার করতে পারে? আন্দোলনে নতুনমাত্রা আনার জন্য কি এশার প্রতি এমন বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে? তবে কারা এর মূল কারিগর? তাদের পরিচয়টাও সামনে আসা দরকার...।
সকল সত্য প্রকাশিত হোক...।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাটচক্রবিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তার ফেসবুকে লিখেছেন, যারা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এমন লজ্জাজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ লজ্জা, এ অপমান কেবল আমার বোনের নয়, গোটা ছাত্রলীগের!

কারও ৪৮ ঘণ্টা কোনোদিন শেষ হয় না, কারও কপালে ৪৮ মিনিটও জোটে না! বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে অনতিবিলম্বে এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাই!

মেহেদি হাসান নামে ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা ফেসবুকে লেখেছেন, জেগে ওঠো ছাত্রলীগ। প্রতিবাদী হও। ইফফাত জাহান এশা অপরাধ করলে হল প্রশাসন বিচার করবে। যারা এশার গলায় জুতার মালা পরাল তারা কারা? তাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে আমরা সাবেকরা মাঠে নেমে পড়ব। এশা ছাত্রলীগের লক্ষ লক্ষ কর্মীর বোন। এশার অপমান আমাদের সকলের অপমান। এটা মেনে নিতে পারব না। ছাত্রলীগ তার বহিষ্কার প্রত্যাহার করুন। কত বড় সাহস, হল প্রশাসনের কেউ না হয়েই আইন নিজের হাতে নিয়ে সাধারণ ছাত্র সেজে এশার গলায় জুতার মালা পরায়! এশা অপরাধ করলে শতবার বিচার হবে, বিচার করবে হল প্রশাসন। এশার গলায় জুতার মালা কেন! ছেলেদের হল হলে এখন একশন শুরু হতো। বিচার চাই। বিচার চাই-ই চাই। এশার বিরুদ্ধে মধ্যযুগের বর্বরতা মানি না... এটা মনে নিতে পারব না...।

জয়দেব দাস নামে একজন লেখেছেন, এই দৃশ্য দেখে এখন আর কোনো বিবেকবানের বিবেক কাঁদে না? ধিক্কার জানাই সেসব বিবেকবানদের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, কার জন্য দল করবেন? কিসের জন্য রাতদিন এক করে দিচ্ছি? ভিডিওতে মেয়েটির আর্তনাদ চিৎকার মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। অনেকেই দেখেছি স্ট্যাটাস দিতে মেয়েটির বহিষ্কার তুলে নিতে! তাদেরকে বলছি, ভাই থামেন আপনার ছাত্রলীগ নিয়ে! ন্যূনতম আমাদের বিবেকবোধ থাকলে এতক্ষণে প্রতিবাদ হতো কঠিন। কিন্তু দেখলাম একদিকে মেয়েটি ছাত্রলীগ করার অপরাধে নিজের বাকি জীবনের সবটুকু হারিয়ে চিৎকার করছে; অন্যদিকে ছাত্রলীগ আনন্দ মিছিলে ব্যস্ত! বাহ!

যদি ভেবে থাকেন এরা একজন এশাকে অপমান করেছে, তাহলে ভুল করবেন!! এরা গোটা ছাত্রলীগকে অপমান করেছে। গত রাতে রগ কাটার গুজ ছড়িয়ে বহিষ্কার করা হলো এশাকে। কিন্তু আজ প্রকাশ্যে তাকে জুতার মালা পরিয়ে যা করা হলো। এটা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।আর দল ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ- এটা ভাবতেই বিস্মিত হচ্ছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত ভিডিও ফুটেছে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করে আইনের কঠিন শাস্তি চাই।

আরেকজন ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের ব্যর্থতা বলে জানিয়ে লিখেছেন, চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে সোহাগ, জাকির। ছাত্রলীগের ইতিহাসে এমন ব্যর্থ নেতৃত্ব আর কখনো দেখেনি। গত রাতে যখন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে এশাকে কুকুরের মতো মেরে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দিচ্ছে, তখন এই দুই কাপুরুষ নেতৃত্ব তাকে বহিষ্কারে ব্যস্ত। তোদের তো উচিত ছিল আগে তাকে রক্ষা করা। এই এশা দিনের পর দিন বছরের পর বছর রাজপথে মিছিল, স্লোগান, আন্দোলন, সংগ্রাম করে আজকে কবি সুফিয়া হল শাখার সভাপতি হয়েছে। আর তোদের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে তাকে জুতার মালা পরতে হলো। এই জুতোর মালা এশার নয়, এই জুতোর মালা পরানো হয়েছে সোহাগ, জাকিরের গলায়। এই জুতার মালা সমগ্র ছাত্রলীগের।।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি/এমআরইউ