logo

শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

'গণঅভ্যুত্থান নোটিস দিয়ে হবে না'

রাজনীতি ডেস্ক | আপডেট: ১৪ মে ২০১৮

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়া জামিন পেলেও রাজনৈতিকভাবে আবারও তাকে কারাগারে রাখা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন রয়েছে।

আজ ১৪ মে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। দেশনেত্রী মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামীকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন ঠিক আছে। আমরা বিশ্বাস করি, খালেদা জিয়াকে আপিল বিভাগে আর আটকে রাখা সম্ভব হবে না। আগামীকাল আপিল বিভাগের রায়ে আমাদের নেত্রী জামিন পাবেন। কিন্তু সরকারের যে নীল-নকশা তাতে খালেদা জিয়া জামিন পেলেও তাকে মুক্ত হতে দেবে না সরকার।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দেয়ার জন্য সরকার নানা অজুহাত সৃষ্টি করবে। তাই আদালতের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা যাবে না। খালেদা জিয়ার সাজা কোনো আইনের কাঠামো বা আইনের নিয়মের মধ্যে হয়নি। যে অভিযোগে সাজা হয়েছে, তার সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার শাস্তি হয় কীভাবে?

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন হতো এবং আইন যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ হতো তাহলে খালেদা জিয়ার শাস্তি হতো না। খালেদা জিয়ার সাজা রাজনৈতিক। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। কাল যদি জামিন হয় তাহলেও রাজনৈতিকভাবেই তাকে কারাগারে রাখা হবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তাই সামনে মুক্তির যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে শুধু আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। রাজনৈতিকভাবেই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন-সংগ্রামের বিকল্প নেই।

আন্দোলন, সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থান ও গণজাগরণ কোনো নোটিস দিয়ে হবে না জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন যেমন হঠাৎ করে হয়েছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ঠিক তেমনিভাবে করতে হবে। এটা তাদের যৌক্তিক দাবি। আজকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার জনগণের কাছে যৌক্তিক দাবি। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটাধিকার জনগণের যৌক্তিক দাবি। এই যৌক্তিক দাবিতে জনগণ একদিন জাগবে। সেই জাগরণ কোনো সময়, তারিখ ও নোটিস দিয়ে হবে না।

বিএনপি প্রার্থীর আপিলের মুখে ২৬ জুন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে ইসি বাধ্য হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খন্দকার মোশাররফ বলেন, এবার গাজীপুরে যে গণজোয়ার উঠেছিল, সেই গণজোয়ার থামবে না। এই গণজোয়ার আরো তীব্রতর হবে।

আগামীকাল খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির এজেন্ট ও ভোটাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। যার ফলে খুলনা নগরী ভয়ের নগরীতে পরিণত হয়েছে। জনগণ ভোট দিতে পারলে আগামীকাল ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি আসাদুজ্জামান নেছারের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদলের সহসভাপতি আলমগীর হাসান সোহান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম