logo

মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

মাথা খারাপ বিএনপির!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং ঈদের আগে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১৪ জুন সারাদেশের জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে বিএনপির এমন সিদ্ধান্তকে মাথা খারাপের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তেমন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি। একইসঙ্গে বারবার খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করার দায়ভার সরকারের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন দলের সিনিয়র নেতারা। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসকদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির স্মারকলিপি কতটুকু কাজে আসবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে রিজভীর এ ঘোষণাকে অনেকটা পাগলের প্রলাপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রায় প্রতিদিনই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সংবাদ সম্মেলনে চলমান বিষয়ের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কিছু বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা বিএনপির অঙ্গ সংগঠন বা সহযোগী সংগঠনের ডাকা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বক্তব্য রাখছেন। তবে দলীয়ভাবে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্তমানে তাদের তেমন কোনো কর্মসূচি নেই।

বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরই বিএনপির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধারাবাহিক মানববন্ধন, অবস্থান, অনশন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, স্মারকলিপি প্রদান, কালো পতাকা প্রদর্শন ও প্রতিবাদ মিছিলসহ কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এসবের মধ্যে শুধু গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। চেয়ারপারসনের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। তবে এ গণস্বাক্ষরের কর্মসূচিও এখন তেমন কার্যকর নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার কারাবন্দী দীর্ঘ হওয়ার জন্য যেহেতু সরকারকে দায়ী করছে তবে ঈদের আগে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি কি কোনো কাজে আসবে? জেলা প্রশাসক কি সরকারের বাইরে? খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশের সুশীল সমাজ অথবা জাতিসংঘ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতো। তা না করে যাকে দোষারোপ করছে তার বরাবরই স্মরকলিপি দেয়ার কর্মসূচি দিয়েছে। এটা বিএনপির পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়।

এ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে বলেন, দলের মুখপাত্র হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী। প্রতিদিনই এমন বক্তব্য দিয়ে তো কোনো ফল আনতে পারছে না। কার্যকর কোনো কর্মসূচি নেই অযথা কর্মসূচির নামে পাগলামি করা।

বিএনপির আরেকজন বুদ্ধিজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর থেকে তার মুক্তির জন্য এখন অবধি তেমন কোনো গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেনি দলটি। শুধু অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে গেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দুর্বলতার কারণেই খালেদা জিয়ার কারাবরণ দীর্ঘতর হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল হুমকি ধামকি দিয়ে কোনো কাজে আসবে না। এসবের পরোয়া করে না আওয়ামী লীগ। টানা দু'বারের ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে হ্যাটট্রিক করবে। সে পথেই হাঁটছে আওয়ামী লীগ। ঘরকুনো বিএনপির বিবৃতি আর টেবিল টকে কোনো ফায়দা হবে না।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম