logo

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

চাপ বাড়ছে বিএনপিতে

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির উপর চাপ বাড়ছে। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অসুস্থতা এবং বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে দেশের বাইরে অবস্থান, দল গোছানো, সরকারকে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা, নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চাপে রয়েছেন দলটির দায়িত্বরত নেতারা।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন হবে এ বছরের ডিসেম্বরে এবং তফসিল ঘোষণা হবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। এতে করে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিএনপি তেমন সময় পাবে না। সময়ের চেয়ে চাপ বেশি বলে মনে করছেন অনেক নেতাই।

তবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিলে সব সমস্যারই সমাধান হবে। দলের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে। দলের যে কোনো সিদ্ধান্তে রাজপথে দাবি আদায়ে নামবে তারা। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি সরকার মেনে না নিলে রাজপথে থাকবে নেতাকর্মীরা।

তবে দলীয় নেতাকর্মীদের এমন দাবির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা দিলে সারাদেশেই নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে।

নির্বাচনের আগে বিএনপির হাতে রয়েছে মাত্র চার মাস। এ অল্প সময়ের মধ্যে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের গোছানো, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ দেশব্যাপী জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে হবে।

তবে এসব বিষয় নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিএনপি তখনই নির্বাচনে যাবে যখন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি মেনে নেয়া হবে। আমরা আশা করছি- সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে (অব.) মাহাবুবুর রহমান ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নির্বাচনের জন্য সব সময় প্রস্তুত আছে বিএনপি। তবে তার আগে সরকারকে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সিটি করপোরেশনগুলোর মত নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকলে তো সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। সরকার বিএনপির সব দাবি মেনে নিলে নির্বাচনের যে সময় আছে এটুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমাদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাকে সব অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মামলাগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপি আর ধৈর্য্যধারণ করবে না। এ সরকারের পতন হবেই।

অপরদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাপ বাড়াতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে সরকারবিরোধী দলটির নেতাকর্মীদের কর্মসূচিকে চার দেয়ালে বন্দি রেখে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে এগিয়ে থাকতে চান ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের কারণে ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাপে আছে বিএনপি। এ চাপ আরও বাড়ানো গেলে মাঠের রাজনীতিতেও দুর্বল হয়ে পড়বে বিএনপি। এ কারণেই আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এ চাপ ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোতে বাধা দেয়া হচ্ছে। একই উদ্দেশ্যে দলটির নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ও অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম