logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

জাতীয় ঐক্যের নেতৃত্বে আসলে কে?

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজনীতিতে নতুন খেলা শুরু হয়েছে। যোগ হয়েছে নতুন নতুন খেলোয়াড়।আবার কিছু পুরান খেলোয়াড় মাঠে নামছেন না, যারা এতদিন সরকারকে তুলোধুনো করেছেন। জাতীয় ঐক্যে যারা আছেন তারা নিজ নিজ দল থেকে সুবিধা করতে না পারলেও তাদের কণ্ঠ কিন্তু থেমে থাকেনি। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে হয়তো এবার সুবিধা নিতে চাচ্ছেন তারা।

জাতীয় ঐক্যের মূলে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রবীণ দুই রাজনীতিবিদ। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং অন্যজন  গণফোরাম সভাপতি ও বিজ্ঞ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। তাদের সঙ্গে আছেন নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্না ও জাসদের ( জেএসডি) আ স ম আব্দুর রব। তবে জাতীয় ঐক্যের নেতৃত্বে আসলে কে? এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। তারেক রহমানই কী এর গুটি চালছেন- এমন প্রশ্নও নানাজনের মুখে।

জাতির সামনে জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও কার সঙ্গে কার ঐক্য সেটা কিন্তু স্পষ্ট করে বলেননি। নির্বাচনের আগে দেশের প্রবীণ দুই রাজনীতিবিদ সরকারবিরোধী ঐক্যের কথা বলায় দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থেকে রাজপথে রাজনীতি করার আশার আলো দেখতে পাচ্ছে বিএনপি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনিও বিভিন্ন মামলা এবং সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় দেশে ফিরতে পারছেন না। বিএনপির এ দুর্দশায় নেতারাও ঘরকুনো হয়ে পড়েছেন। বিএনপির ভঙ্গুর অবস্থায় এ মুহূর্তে ড. কামাল ও বি চৌধুরীর জাতীয় ঐক্যে সামিল হতে সিদ্ধান্ত নেয়।

জানা গেছে যে, ড. কামালের নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্যের জন্য বিএনপির রাজি হওয়ার পেছনের কারণ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানো, বিএনপিকে মুক্ত করা। তাই বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীদের নেতৃত্ব মানতে রাজি বিএনপি। আসন ভাগাভাগিতেও থাকবে সমতা। যদিও ভোটের মাঠে কামাল-বি চৌধুরীদের কোনো প্রভাব নেই। বিএনপির ভোট এবং সরকারবিরোধী ভোট ব্যাংকই তাদের ভরসা। তাই তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপির সব ধরনের সমন্বয় করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপিকে সামিল করতে কাজে লাগিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং আরো বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে।

গতকাল শনিবার মহাসমাবেশের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐক্য। মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশের মধ্যে দিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু সমাবেশ কার নেতৃত্বে হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। দেড় ঘণ্টা পর সমাবেশস্থলে এসে সভাপতিত্ব করেন বিকল্প ধারার নেতা অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

জানা গেছে, সমাবেশে সমবেত নেতাকর্মীদের মধ্য ৮০ ভাগই ছিল বিএনপি-জামায়াতের। ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ ভাড়া নেয়া থেকে শুরু করে সব টাকার যোগান দেন তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ আবদুল আউয়াল মিন্টু। সমাবেশের যে আল্টিমেটাম দেয়া হয়, তা লন্ডন থেকে তারেক জিয়া প্রণীত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- ঐক্য প্রক্রিয়ার আসল নেতা কে? ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী নাকি তারেক রহমান?

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে পলাতক তারেক রহমান দুজনই অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ দিয়ে শুধু ড. কামালের নেতৃত্বে ঐক্যের পক্ষে ছিলেন। কিন্ত ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে জানিয়ে দেন যে, বি চৌধুরীকেও ঐক্য প্রক্রিয়ায় লাগবে। এ ব্যাপারে কৌশলগত যুক্তিও বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বোঝান ড. কামাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার ড. কামাল হোসেনের ল চেম্বারে বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ড. কামালের বৈঠকে অধ্যাপক চৌধুরীকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ড. কামাল হোসেনের মধ্যস্থতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির তিন নেতা অধ্যাপক চৌধুরীর বাসায় যান। তারা সেখানে অতীতে তার প্রতি অন্যায়ের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে ক্ষমাও চান। এরপরই অধ্যাপক চৌধুরী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যোগ দিতে সম্মত হন।

ড. কামাল হোসেন এবং অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী চেয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত জনসংযোগমূলক কর্মসূচি রাখতে। গত ২৮ আগস্ট ঐক্য প্রক্রিয়ার যে বৈঠক ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাতে সিদ্ধান্ত ছিল যে, ২৮ অক্টোবর যদি সংসদ ভেঙে না দেয়া হয়, তাহলে আন্দোলন শুরু করবে।

কিন্তু তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে এ সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। তারেক রহমানই ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়ার জন্য চাপ দেন ড. কামালকে। আগামী ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের আগেই রাজপথ উত্তপ্ত করতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। তাহলে কী জাতীয় ঐক্যের আসল নেতা তারেক রহমান?
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম