logo

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

রাজধানীতে বিএনপির জনসভা ২৭ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে জনসভা করবে বিএনপি। আজ সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, বিএনপির উদ্যোগে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সুশাসনের বোধ কখনোই ছিল না। নানা ফন্দি-ফিকির করে ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস বিতরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডার সন্ত্রাস, লুটপাট, নির্যাতন-অত্যাচারের কাহিনী প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় জায়গা দখল করে থাকে।

তিনি বলেন, আওয়ামী রাজনীতি কখনই দলীয় সংকীর্ণতার বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। সেজন্য আওয়ামী ক্ষমতাসীনরা ব্যাংক-বীমা, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেক্টর সবই আত্মসাৎ করেছে। এখন বেওয়ারিশ লাশ দাফনের সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের ওপরও নজর পড়েছে।

রিজভী বলেন, দেশ এখন আওয়ামী কুরাজনীতির ঘোঁট পাকানো অবস্থার মধ্যে পড়েছে। সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম চলছে। ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলা এটির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ২১ আগস্ট হামলাকারী আসামিরা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে গ্রেনেডগুলো সংগ্রহ করে তা পশ্চিম মেরুল বাড্ডায় মুফতি হান্নানের অফিসে নিয়ে আসে। অতঃপর সেখানে অপারেশনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত মিটিং করে। পরদিন ২১ আগস্ট সকালেই তারা অপারেশনস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সভাস্থলে পৌঁছে যায়।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি (এফবিআই) তদন্ত সংস্থা তথা এমন অপরাধ সম্পর্কিত সামরিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্তব্য করেছিলেন- এমন নিখুঁত টাইমিং ও টার্গেট (ট্রাক-মঞ্চ পরিহার করে পরিচালিত) সফল হামলা অবশ্যই এ বিষয়ে প্রফেশনাল লোক তথা যথাযথ পূর্ব রিহার্সেল ছাড়া এককথায় অসম্ভব বলেও যোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, সভাস্থলের নিরাপত্তা বিধানকারী পুলিশ না জানলেও পূর্ব রিহার্সেল করার মতো পর্যাপ্ত সময় আগে থেকেই হামলাকারীরা জানত যে মিটিংটা মুক্তাঙ্গনে নয়, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পার্টি অফিসের সামনেই হবে। সেইভাবেই তারা নিখুঁত প্রস্তুতি, অতঃপর কার্য সম্পন্ন করে। আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থক তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দের পরিচয় ইতোমধ্যে খানিকটা দেয়া হয়েছে। তিনি চার্জশিট মহাকাব্য রচনায় সিদ্ধহস্ত বলেই তাকে ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার দায়িত্ব যে দেয়া হয়েছে। তিনি কাল্পনিক রিপোর্ট তৈরি করতে দক্ষ, এর প্রমাণও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার তদন্তের দায়িত্বভার প্রদান করা একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী। বলেন, নির্দোষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য কর্মকর্তাদের কাল্পনিক গল্প তৈরি করে ফাঁসানোই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। কাহার আকন্দ শেখ হাসিনার ইচ্ছাপূরণে সেই কাজটিই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।

এ সময় তিনি ওবায়দুল কাদেরের ‘গণমাধ্যমের একাংশ আওয়ামী লীগের প্রতি অবিচার করছে’ বক্তব্যের বিপরীতে বলেন, আমরা মনে করি অবিচার করছে না; বরং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর গুন্ডামি ও গোয়েন্দাগিরি সত্ত্বেও গণমাধ্যমের বিরাট অংশ সাহসের সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। তবে ক্ষুদ্র একটি অংশ যে পা চাটছে ও সুবিধার ঝোল খাচ্ছে তা জনগণ দেখছে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি