logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

বিভ্রান্তিতে বি. চৌধুরী, ড. কামালের অধঃপতন!

রাজনীতি ডেস্ক | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৮

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে। এরপর বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী 'ঐক্য প্রক্রিয়া'র রূপরেখা চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই এতে ফাটল ধরে। বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে নিয়ে নতুন জোট গঠিত হয়। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে কোনো ঐক্য নয় বলে ঘোষণা দেন বি. চৌধুরী।

নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা না থাকা নিয়ে বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সরব আলোচনা। বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে মুখ খুলছেন সরকারদলীয় ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা তো জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করছি না। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতকে রাখা না রাখা নিয়ে বি. চৌধুরী বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। বি. চৌধুরী না এলেও ঐক্য প্রক্রিয়া সফল বলেও দাবি করেন তিনি।

রোববার রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের টকশো’তে এসব কথা বলেন তিনি। টকশো’তে আরও অংশ নেন জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন।

তিনি বলেন, বি. চৌধুরী আমাদের ঐক্য প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যাবেন, তা তো কোনো কথা নয়। তিনি যে দুটি শর্ত দিয়েছেন, তার মধ্যে একটা তো যেমন ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এটা আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে ইনক্লুড করেছি। আমরা বারবার বলছি যে, আমাদের ঐক্য কোনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সাথে করবো না। যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তখন তো বিএনপির জন্মই নেয়নি। তারা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করার প্রশ্নই আসে না। তাদের মধ্যেও যথেষ্ট সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা আছেন।

মান্না বলেন, আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। আমরা যে পাঁচটি দাবি দিয়েছি, সে দাবিগুলোর জন্য লড়াই করবে। আমরা এ কথাটাই বলছি যে, জামায়াতকে নিয়ে আমরা কোনো নির্বাচন করবো না। জামায়াতের তো কোনো রাজনৈতিক নিবন্ধন নেই। তাদের প্রতীক নিয়ে তো তারা নির্বাচন করছে না। প্রতীক ছাড়া তারা আ.লীগ, বিএনপি বা যেকোনো দলের হয়ে নির্বাচন করতে পারে।

এদিকে আজ সোমবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মুখপাত্র হাছান মাহমুদ বলেছেন, ড. কামাল বঙ্গবন্ধুর কথা বললেও তিনি তাদের সঙ্গেই ঐক্য গড়েছেন যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোশকতা করেছেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যারা জড়িত তাদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের ঐক্য অধঃপতনের প্রমাণ।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ড. কামাল হোসেন একটি গণতদন্ত কমিশন গঠন করেন। এ তদন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছিল। বর্তমান অবস্থায় এসে ড. কামাল হোসেন বিএনপির সাথে ঐক্য করছেন, যা তার জন্য রাজনৈতিক চরম অধঃপতন ছাড়া কিছু নয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, ড. কামাল হোসেন এখনও বলেন যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে না, যারা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রীয় সব প্রচারযন্ত্র থেকে নির্বাসিত করেছিল, ড. কামাল হোসেন এখন তাদের সাথে ঐক্য করছেন।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম