logo

সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

‘প্রধানমন্ত্রী ফিরলে জোটের রূপরেখা নিয়ে সিদ্ধান্ত’

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে দলের সংখ্যা বাড়বে কিনা এ সিদ্ধান্ত আরো কিছুদিন পরে নেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ফিরলে কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জোটের রূপরেখা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান। শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে জোটে নতুন কোনো দল আসবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ইতোমধ্যে আমার সঙ্গে জাকের পার্টি দেখা করেছে। ৭ দলীয় একটা বাম জোট অফিসে এসে একটা আবেদন রেখে গেছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করতে চায়। বাহাদুর শাহের ইসলামী ফ্রন্টও আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে সামিল হতে চান। প্রতিদিনই দুই একটা আবেদন কিংবা দেখা করে তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, তবে আমরা এ বিষয়ে এখনো মুখ খুলছি না, সবার কথা শুনছি। আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে আসলে আমাদের কার্যনির্বাহী মিটিং এ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে কাকে আমরা জোটে নেবো, কাকে নেবো না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের ১৪ দলীয় জোট রয়েছে। আবার জাতীয় পার্টিও রয়েছে, জাতীয় পার্টি আগে আমাদের সঙ্গে মহাজোট করেছিল। সবাইকে নিয়ে একটা নির্বাচনী মহাজোট হতে পারে, তবে সেটা নির্ভর করছে বাস্তব পরিস্থিতি ও মেরুকরণের ওপর। আমরা জোটের পরিসর বাড়াবো কি বাড়াবো না, অথবা আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচন করবো কিনা সেটা নিয়ে আরো কয়েকদিন পরে সিদ্ধান্ত নেবো।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অলি আহমেদ সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল, কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করতে চান- এমন কোনো অভিপ্রায় তিনি ব্যক্ত করেননি। বদরুদ্দোজা সাহেবের যুক্তফ্রন্ট নিজেরাই বোধহয় জোট করার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানি। ভালোই তো ১৪টা জোট হয়েছে, ২০-২৫টা হলে অসুবিধা কি? এটাতো গণতন্ত্র। শতফুল ফুটতে থাকুক।’

ঐক্যফ্রন্টের কর্মকাণ্ড বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনীতিতে এলায়েন্সের কাফেলা এগিয়ে চলছে। জোট ভাঙছে, গড়ছে। শেষ পর্যন্ত মেরুকরণ কোথায় কিয়ে দাঁড়ায় তার ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনের সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এটা ২০০১ কিংবা ২০১৪ সাল নয়। আগামী ১৫-২০ দিনে বিএনপি যদি মনে করে, তারা ২০০১ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। এটা সম্ভব নয়, আমাদের সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাসের কারণ হলো বাংলাদেশের জনগণ এবার দলীয়ভাবে আমাদের সঙ্গে রয়েছে। দেশের জনগণ শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও সৎ নেতৃত্বে আস্থাশীল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শহীদ শেখ রাসেলের আজকে জন্মদিবস, মৃত্যূর বেদনা সেই জন্মদিবসকে ছাপিয়ে যায়। আমাদের শপথ হবে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও খুনের রাজনীতিকে নির্মূল করা। হত্যা, সন্ত্রাস ও খুনের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ. শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আক্তারুজ্জামান, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।

বনানী কবরস্থানে শেখ রাসেলের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর ১৫ আগস্ট রাতে শহীদ হওয়া সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ফেমাসনিউজ২৪/কেআর/এস