logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

ভাঙা মাজা সোজা হবে কী বিএনপির?

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮

ভাঙা মাজা সোজা হবে না বিএনপির। আন্দোলনের হুংকার দিলেও মাঝাভাঙা দলের ডাকে জনগণ আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর সরকারের উদ্দেশ্যে ৭ দফা দেয়া হয়। বলা হলো, ৭ দফা দাবি না মেনে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। সরকারের সঙ্গে সংলাপ ব্যর্থ হলে রোডমার্চ করে বৃহস্পতিবার রাজশাহী অভিমুখে যাত্রা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু অদৃশ্য কারণে গ্রেফতারের অজুহাত তুলে বুধবার রাতে রোডমার্চ স্থগিতের ঘোষণা দেন এই বিএনপি নেতা।

বিএনপির এমন সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। তারা বলছেন, বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের হুমকি বা হুঁশিয়ারি দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যে দলের কোমড় ভাঙা, তারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিতে পারে কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারে না। এদের ভয় করার কিছু নেই।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হাঁটুভাঙা দল বিএনপির সঙ্গে জোট করেছেন কোমর ভাঙা দলের নেতারা। এ ঐক্য দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। তারা ডাক দিলে জনগণ আসবে না। আওয়ামী লীগে ঐক্য থাকলে ৭০ দল ঐক্য করলেও আওয়ামী লীগের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার অনেক আগে থেকেই আন্দোলনে আসবে আসবে বলে অনেকবার ঘোষণা দিয়েছে। ঈদের পরই আন্দোলন বলেও ঘোষণা দিয়েছিল দলটি।

এ নিয়েও সমালোচনাও করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দেখতে দেখতে ২০টা ঈদ চলে গেছে। বিএনপি কোন ঈদের অপেক্ষায় আছে? ১০ বছর তো পার হয়ে গেল, আন্দোলন হবে কোন বছর?

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র নেতাদের কেউ কেউ আন্দোলন কঠোর হবে বলে জানালেও সত্যিকার অর্থে রাজপথে প্রকাশ্যে আন্দোলন নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে তারা। আর দলটির তৃণমূল বলছে- কর্মসূচি দিয়েই খালাস তারা। কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেই হাইকমান্ডের।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি বরাবরই নিজেদের আন্দোলনে জনসম্পৃকতায় ব্যর্থ। এবার আন্দোলনের কথা বললেও নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তির চেয়ে জনগণের সম্পৃক্ততার ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগেও তাদের আন্দোলনে জনসমর্থন তেমনভাবে দেখা যায়নি। এখন হঠাৎ করেই আন্দোলনে জনসমর্থন পাওয়া যাবে এমন আশা করাও বোকামি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতা করার চেষ্টা করবে বিএনপি। তবে অগণতান্ত্রিক উপায়ে কোনো নাশকতা করলে তা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে পারবে না। কারণ তাদের ডাকে কেউ সাড়া দেবে না। জনগণের সাড়া না পেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধার সৃষ্টি করতে নাশকতা করতে পারে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে কোনো প্রকার বাধা দেয়া হবে না। তবে আন্দোলনের নামে ২০১৪ সালের মত জ্বালাও-পোড়াও করলে তা মেনে নেয়া হবে না। বিএনপির সব রকম নাশকতা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছে আওয়ামী লীগ।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আজ এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের ঘাড়ে ভর দিয়ে বিএনপি সংলাপের নামে আন্দোলনের পথ খুঁজছিল। তারা ভেবেছিল- সংলাপে প্রধানমন্ত্রী সাড়া দেবেন না এবং সেই অজুহাতে তারা আন্দোলনে নেমে পড়বেন। তারা এখন আন্দোলনেও পরাজিত, সংলাপেও পরাজিত এবং জাতীয় নির্বাচনেও পরাজিত হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনে যেতে চাচ্ছে, কিন্তু নতুন কোনও ইস্যুও পাচ্ছে না। বিএনপি এখন তাদের নেত্রীর মুক্তির ব্যাপারে কথা বলছে। কিন্তু তাদের নেত্রীতো ১/১১’র সময় এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। সুতরাং সেখানেও তাদের কোনো লাভ হচ্ছে না।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম